নেত্রকোণায় দূর্গাপূজা আয়োজনে করোনার প্রভাব

জাহাঙ্গীর আলম,  নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বড় উৎসব দুর্গাপুজা আয়োজনে করোনার প্রভাব পরেছে। আয়োজকেরা বলছেন, এবার গত বছরের তুলনায় অর্ধেক মন্ডপে পুজার আয়োজন হতে পারে। এতে করে হতাশায় ছেয়ে গেছে প্রতিমা কারিগরদের ভাগ্যাকাশ। আসছে আগামী ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে দুর্গাপুজা।

বছর বছর নেত্রকোণা জেলাজুড়ে পারিবারিক, স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ মন্ডপে আয়োজন হয় এই শারদীয়া উৎসবের। অন্য বছরগুলোতে পুজা শুরুর তিন থেকে চার মাস আগে থেকেই মন্ডপে মন্ডপে চলে পুজার আয়োজন। শুরু হয় প্রতিমা, প্যান্ডেল তৈরীর কাজ। কিন্তু এ বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে পুজা অনুষ্ঠানের আর মাত্র ২৫দিন সময় থাকলেও বেশিরভাগ মন্ডপে প্রতিমা নির্মাণসহ প্যান্ডেল তৈরীর কাজ শুরুই হয়নি। অর্ধেক মন্ডপে পুজা অনুষ্ঠান হতে পারে বলছেন আয়োজকেরা।

এদিকে নেত্রকোণা জেলায় দুই শতাধিক প্রতিমা কারিগর ও পাঁচ শতাধিক প্রতিমা শ্রমিক রয়েছেন। তারা বলছেন, অন্যবছরগুলোতে এমন সময় প্রতিমা তৈরীতে তারা ব্যস্ত সময় পার করেন। একেকজন কারিগর ৫/৬টি প্রতিমা নির্মাণের কাজ পান। চট্রগ্রাম, সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলাতেও প্রতিমা তৈরীর কাজ পান তারা। এবার তাদের হাতে কাজ নেই। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন প্রতিমা তৈরীর কারিগরেরা।

কারিগরদের হাতে কাজ না থাকায় মারাত্মক দৈন্যদশায় দিনাতিপাত করছেন শ্রমিকেরা। করোনার কারনে অর্থনৈতিকভাবে সরকারি প্রণোদনার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দুর্গাপুজার প্রতিমা তৈরীর আয় দিয়েই সংসার চালান প্রতিমা কারিগর ও শ্রমিকরা। এবছর কাজ না থাকায় সামনের দিনগুলো কিভাবে চলবেন এ নিয়ে দু:শ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। এমতাবস্থায় এই মৃৎ শিল্পীদের জীবন মান রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে সরকার এমনটাই প্রত্যাশা তাদের। এব্যাপারে পূজা আয়োজক ও প্রেসক্লাব সম্পাদক শ্যামলেন্দু পাল বলেন, নেত্রকোণাতে অত্যন্ত ধুমধামে দূর্গাপুজা উদযাপিত হয়। কিন্তু এবার করোনার প্রভাবে সীমিত পরিসরে উদযাপিত হবে এই উৎসব। সাধারণত ৪৫০ বা ৫০০ এর মত পুজাঁ হয়।

কিন্তু এবার অর্ধেক হবে। তাই যারা প্রতিমার তৈরীর কারিগর তারা এবার অসহায় অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। তারা পাচ্ছেন না কোন আর্থিক সহায়তা তাই অত্যন্ত দুঃখ দুর্দশার মধ্যে দিন যাপন করছেন। আমরা মনে করি সরকারের এসমস্থ কারিগরের প্রতি নজর দেওয়া দরকার।