নেত্রকোণায় অজ্ঞাত রোগে মাছের মড়ক, মাছ চাষির মাথায় হাত

জাহাঙ্গীর আলম, নেত্রকোণা প্রতিনিধি: নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলায় আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব ও খাদ্যে ভেজালসহ অজ্ঞাত রোগের কারণে মাছের মড়ক দেখা দিয়েছে।

বুধবার (২২এপ্রিল) দিবাগত রাতে প্রায় ১শত মণ মাছ মরে যাওয়ায় ও উৎপাদন কমে যাওয়ায় ১৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাছ চাষি হুমায়ুন কবীর। বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জানান, করোনা সংকটে সরকারের চলমান প্রণোদনা প্যাকেজে ক্ষতিগ্রস্থ মাছ চাষীদের নাম অন্তর্ভূক্ত করে সমস্যা সমাধানে কার্যকরী উদ্যোগ নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী মৎস্য চাষী ও উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত দুই তিন দিন ধরে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে বারহাট্টা উপজেলায় পুকুর-দীঘিগুলোর মাছ অজ্ঞাত কারণে মরে মরে ভেসে উঠেছে। পাবদা, রুই, কাতল সহ অন্যান্য বড় বড় মাছগুলোই এসব অজানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। মরা মাছ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে মৎস্য চাষীরা।

চলমান করোনা সংকটে দেশব্যাপি লকডাউন হওয়ায় বারহাট্টা থেকে মাছের গাড়িতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাছ যাচ্ছে না বললেই চলে। আর মরা মাছ বাইরে কোথাও পাঠানো যাচ্ছে না। ফলে অল্প দামেই এসব মরা মাছ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে ভূক্তভোগী চাষী হুমায়ুন কবীর।

উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের মৎস্য চাষী হুমায়ুন কবীর জানান, বুধবার(২২এপ্রিল) দিবাগত রাতে আমার দীঘিতে ছোট-বড় সকল মাছ মরে ভেসে উঠছে। এক একরের একটি দীঘিতে প্রায় ১শত মন মরা মাছ ভেসে উঠেছে। এসব মাছ তিনি অল্প মূল্যে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি। এতে তার ১৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বারহাট্টা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর আহম্মেদ জানান, আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে অক্সিজেনের অভাবে এসব মাছের মড়ক লেগেছে বলে জানান।

বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মোরশেদ জানান, মাছ মড়কের বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।