নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে মৎস্যজীবির মৃতদেহ বাসায় রেখে প্রতিবেশী মিঠু বর্মণ পলাতক

জাহাঙ্গীর আলম,নেত্রকোণা প্রতিনিধি: নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলায় মৎস্যজীবি সুশেন বর্মণের মৃতদেহ বাসায় রেখে প্রতিবেশী মিঠু বর্মণ এলাকা থেকে এক সপ্তাহ যাবৎ পলাতক রয়েছে। মিঠু বর্মণ পলাতক থাকায় এলাকাবাসীর মাঝে মৎস্যজীবি সুশেনের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার সরেজমিনে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের বরান্তর গ্রামের বাসিন্দা মিঠু বর্মণ। অত্র এলাকায় গজারিয়া বিল (মাছের অভয়াশ্রম) থেকে অবৈধ ভাবে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার (১৪এপ্রিল) মধ্যরাতে মিঠু বর্মণের নের্তৃত্বে সুশেনসহ আরো কয়েকজন হাওরে যায়।

 

মাছ শিকার করার কৌশল হিসেবে বেছে নেয় তৈজস্ক্রিয় জাতীয় বিষ। আর এই বিষ প্রয়োগ করার জন্য সুশেন বর্মণকে দায়িত্ব দেয় মিঠু বর্মণ। সুশেন বর্মণ বিষ প্রক্রিয়াজাত করার সময় নিজেই সংক্রমণ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। পরে রাতেই মিঠু বর্মণ ও তার সঙ্গীরা মিলে মৎস্যজীবি সুশেনের মৃতদেহ বাসায় রেখে মিঠু বর্মণ এলাকা থেকে পলায়ন করে। সুশেন বর্মণের মৃত্যুর পর মিঠু বর্মণ পলায়ন করায় এলাকাবাসী ও স্বজনের মাঝে মৃত্যু নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

 

গ্রাম্য চিকিৎসক দীগেন্দ্র বর্মণকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমাকে রাতে পারিবারিক লোকজন ডাকলে সুশেন বর্মণের দেহের হার্টসহ শরীরের কোনো অঙ্গ কাজ না করায় আমি চলে আসি। স্থানীয় মেম্বার রুবেল চৌধুরী বলেন, মিঠু বর্মণ এলাকায় চিহ্নিত মাদকাসক্ত ব্যক্তি। তার নের্তৃত্বে সুশেন মাছ শিকার করতে গিয়ে বিলে মৃত্যু হয়েছে। আমি সকালে সুশেনের বাসায় আসার পূর্বেই শুনি তাড়াহুড়ো করে মৃতদেহ সৎকার করে ফেলেছে। সুশেনের বড় ভাই ঠাকুর ধন বর্মণ বলেন, আমার ছোট ভাইয়ের শরীরের অবস্থা দেখে গ্রাম্য চিকিৎসক দীগেন্দ্র বর্মণকে খবর দিই, তিনি এসে সুশেন বর্মণকে মৃত ঘোষণার পর আমরা সৎকার করে ফেলি। মৎস্যজীবি সুশেন বর্মণের মৃত্যুর বিষয়ে প্রতিবেশী মিঠু বর্মণের সাথে বারংবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।