নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে বন কর্মকর্তা মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ কাঁটার অভিযোগ

জাহাঙ্গীর আলম,নেত্রকোণাঃ নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলায় টেন্ডার ছাড়াই বিভিন্ন প্রজাতির সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসানের বিরুদ্ধে । রবিবার (২৯ মার্চ)উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা করোনা আতঙ্কের সুযোগে সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের সমাজ নাজিরগঞ্জ ভায়া শ্রীরামপুর রাস্তার দুই ধারে থাকা সরকারি এসব গাছ কাটা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন থেকে ইউনিয়নের সমাজ নাজিরগঞ্জ ভায়া শ্রীরামপুর রাস্তার দুই ধারে গাছগুলো বেড়ে ওঠে। ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সের প্রায় অর্ধশত গাছ উপজেলা বন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসানের নির্দেশে রবিবার বিকালে কেটে ফেলা হয়। গাছ গুলোর মধ্যে আমগাছ, জামগাছ, মেহগনি গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মানিক রবিদাস বলেন, ‘গাছের অবস্থান সরকারি জায়গায়, তাই গাছ কাটা দেখতে পেয়ে তৎক্ষণাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহোদয়কে জানাই। পরে বিষয়টি নিয়ে ০১ এপ্রিল বুধবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নিকট একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। বিধিসম্মতভাবে গাছগুলো কাটা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম খান সোহেল বলেন, টেন্ডার ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের এসব গাছ কাটা হয়নি, কর্তনকৃত গাছ গুলো উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি জব্দ করেছেন। মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুজ্জামান জানান, সরকারি কোনো গাছ কাটার আগে উপজেলায় গাছ কাটা সংক্রান্ত কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে অনুমতি নিয়ে বিধিসম্মতভাবে গাছ কাটতে হয়। গাছ কাটার বিষয়ে অভিযুক্ত বন কর্মকর্তার কাছে বক্তব্য চাওয়া হয়েছে, বক্তব্য পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু তার উপজেলায় এসব গাছ কাটা সংক্রান্ত কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং বিষয়টি তিনি জানেন না। বন বিভাগ থেকেও তাকে জানানো হয়নি। যদি বন বিভাগ বেআইনিভাবে গাছগুলো কেটে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উত্তেজিত কন্ঠে বলেন গাছগুলো কাটার সাথে আমি কোনো ক্রমেই জড়িত না বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত উপজেলা বন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হাসান।