নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার চিরাম ইউনিয়নের আলোচিত সোহাগ হত্যার রহস্য উদঘাটন

মামুন কৌশিক, বারহাট্টা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার বারহাট্টা থানা তথা নেত্রকোণা জেলা পুলিশের দ্রুত উদ্যোগে বহুল আলোচিত বারহাট্টা উপজেলার চিরাম ইউনিয়নের সোহাগ হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে।

জানা যায় গত ইং-২৯/৭/২০২০ তারিখ দিবাগত রাতে বারহাট্টা থানাধীন চিরাম ইউনিয়নের চিরাম সাকিনের জনৈক সোহাগ মিয়া(৪৫) নামীয় একটা ব্যাক্তি মাছ ধরতে বের হয়।পরদিন ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন খুঁজাখুঁজি করতে থাকে।এক পর্যায়ে তাহার পরিহিত লুঙ্গি খোঁজে পাওয়া যায়। তাহার সাথে খারাপ কিছু হয়েছে বলা ঘটে গিয়েছে মর্মে সন্দেহ করে পরিবারের লোকজন বারহাট্টা থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করে।

এই বিষয়ে বারহাট্টা থানার অফিসার ইন চার্জ মিজানুর রহমান বলেন যে, আমার সরকারি মোবাইল ফোনে সোহাগের নিকট আত্মীয় অবঃ সচিব মহোদয় আমাকে জানান। আমি তখন ঈদুল আজহা উপলক্ষে থানার অফিসার, ফোর্স ও তাদের পরিবার বর্গদের খাওয়ানোর জন্য গরু ও ছাগল কিনার জন্য স্থানীয় একটি বাজারে অবস্থান করছিলাম।

এ সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে বিষয়টি উর্ধ্বতন অফিসার দের জানিয়ে বাজার হইতে সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স সহ ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্য রওয়ানা হই।ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনার ভয়াবহতা অনুভব করে বিস্তারিত সিনিয়র স্যারদের জানাই।স্যারেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন।ফায়ার সার্ভিস এ-র ডুবুরি দল সহ সারাদিন খুঁজাখুঁজি করেও কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরদিনও চলে খুঁজাখুঁজি। ০১/৮/২০২০ তারিখ পবিত্র ঈদুল আজহা। সকাল ০৭.৩০ ঘটিকায় খবর আসে ঘটনাস্থল হতে প্রায় ৩/৪ গজ দূরে কচুরিপানার নিজে নিখোঁজ সোহাগ মিয়ার লাশ পাওয়া গিয়াছে। সকাল ০৮.৩০ ঘটিকায় ঈদের জামাতের সময় নির্ধারন ছিল,অপেক্ষা না করে রওনা হই ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে। লাশ উদ্ধার করতঃ যথারীতি ময়নাতদন্তের জন্য আধুনিক সদর হাসপাতাল নেত্রকোণায় প্রেরণ করা হয়।

এ ঘটনায় মৃত সোহাগ মিয়ার ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে বারহাট্টা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা হয়।তদন্তে নামে বারহাট্টা তথা নেত্রকোনা জেলা পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্ত কারী কর্মকর্তা জনাব সোহেল রানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বারহাট্টা থানা, মাননীয় পুলিশ সুপার নেত্রকোণা মহোদয়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রসাশন,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বারহাট্টা সার্কেল স্যারদের প্রত্যক্ষ দিক নির্দেশনা ও সহায়তায় ময়মনসিংহ,

গাজীপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রামে অভিযান পরিচালনা করিয়া সোহাগ হত্যার সাথে জড়িত দুজন কে আটক করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটিত হয়। অদ্য ই- ০৪/৮/২০২০ তারিখ আসামি দোষ স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়াছে।

আলহামদুলিল্লাহ এত দিনের ত্যাগ,কষ্ট ও পরিশ্রমের ফলে একটি ক্লু- লেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটিত হলো।ধন্যবাদ সকল সিনিয়র স্যার,সহকর্মী ও যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে সহায়তা করেছেন।