নেত্রকোণার বারহাট্টায় সর্বশেষ পাহাড়ি ঢলের পানিতে ক্ষতি প্রায় ৩০ কোটি টাকার আমন ধানের

মামুন কৌশিক, বারহাট্টা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলায় পঞ্চম ধাপে পাহাড়ি ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে প্রায় ৩০ কোটি টাকার রোপা আমনের ক্ষতি হয়েছে।সাধারণ কৃষকরা চোখের সামনে দেখেছেন পানির নিচে চলে গেছে তাদের কষ্টের ফসল।

বৃষ্টিপাত না কমায় এবং পাহাড়ি ঢলের পানি আসা অব্যাহত থাকায় এই ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে জানান স্থানীয় কৃষক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।তবে বর্তমানে পানি কমতে শুরু করেছে তবে এখন পানি কমলেও কোন লাভ হবেনা না কৃষকদের এমনটাই দাবী তাদের।

নতুন করে বীজ না থাকায় তারা আর জমিতে চারা রোপণ করতে পারবেন না।বারহাট্টা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাইমিনুর রশিদ জানান যে প্রান্তিক কৃষকরা অনেক কষ্টে আছেন।আমি গত রবি সোম দুদিন পুরো বারহাট্টা উপজেলা হন্য হয়ে ঘুরেছি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সাথে কথা বলেছি।বার বার কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য।তাই বারহাট্টা উপজেলার নদীগুলো দ্রুত খনন করা দরকার।

এছাড়াও অবাধে অপরিকল্পিতভাবে ফিসারী তৈরিতে নিরুৎসাহিত করা, ইটভাটায় মাটি বিক্রি বন্ধ করা, নদী শাসন নিশ্চিত করা, সুনিদির্ষ্ট জায়গায় সুইচগেইট নির্মাণ করা, খাল খনন করা দরকার।বারহাট্টা উপজেলাকে হাওরভুক্ত ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করারও দাবী জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।তিনি আরও জানান এই রোপাআমন মৌসুমে বারহাট্টা উপজেলার ৯৬৬২ জন কৃষক প্রায় ১২২৫০ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করেন।

সেপ্টেম্বরে প্রথম দিকে পাহাড়ি ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের জন্য প্রায় ৪০০০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে চলে যায়।তার মধ্যে ২৪০০ হেক্টর জমির ধান প্রথমেই সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।৩৬০০ হেক্টর জমির ধান প্রথমে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকায় আংশিক ক্ষতির আরো ১০৮০ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।মোট প্রায় ৩৪৮০ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

এই মৌসুমে মোট উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮৩৭৬ মেট্রিক টন ধান।সেই হিসাবে প্রায় ৩০ কোটি ১৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।