নেত্রকোণার বারহাট্টায় পল্লী বিদ্যুৎ এর খামখেয়ালীপনায় বড় ক্ষতির মুখে পোল্ট্রি খামারিরা

মামুন কৌশিক,  বারহাট্টা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলায় পল্লী বিদ্যৎ এর খামখেয়ালীপনায় বড় ক্ষতির মুখে পরেছেন পোল্ট্রি খামারিরা। পল্লী বিদ্যৎ এর পূর্বের একটি ঘোষণা থেকে জানা যায় যে, নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলা সহ মোহনগঞ্জ উপজেলা ও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় গত পাঁচ সেপ্টেম্বর থেকে সকাল সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার কথা বলেছিল নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রাজেন্দ্রপুর কার্যালয়। তখন তারা জানিয়েছিল যে মুজিববর্ষে এবং করোনাভাইরাসের দুর্যোগের সময়ে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহের স্বার্থে নেত্রকোণা গ্রিড উপকেন্দ্রের মেরামত করা হবে।
তারা আরও জানিয়েছিল যে, ৩৩ কেভির ৩নং সার্কিটের গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে ঠাকুরাকোণা অংশে ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ৩৩ কেভি ডাবল সার্কিট নির্মাণ ও জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলবে। কাজ চলাকালীন বারহাট্টা ও মোহনগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় আগামী একমাস বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।তবে সপ্তাহের শুক্রবার ও রোববার বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু থাকবে।সেই ঘোষণার মোতাবেক বিদ্যৎ অফিস যে সময় চেয়েছিল সেটা গত সাত অক্টোবরই শেষ হয়েছে।কিন্তুু তারপরও গতকাল ১৩ ই অক্টোবর কোনরকম ঘোষণা ব্যাতীত সকাল আটটা থেকে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।যার কারণে বারহাট্টা উপজেলা সদর এর বরুহাটি গ্রামের পোল্ট্রি খামারি রাকবি তালুকদারের প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকার পোল্ট্রি মুরগি মারা যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।তিনি আরও জানান যে, পূর্বে যখন ঘোষণা দিয়েছিল তখন আমি বিকল্প ব্যবস্থা করতাম।
কিন্তুু গতকালকে কোন ঘোষণা ছাড়াই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।তখন প্রচন্ড গরম এবং তাড়াহুড়া করে কোন বিকল্প ব্যবস্থা না করতে পারায় আমার এই ক্ষতি হয়েছে এবং আমি এখন প্রায় শেষ হয়ে গেছি।এছাড়াও উপজেলার আরো ত্রিশ থেকে চল্লিশ জন ব্যবসায়ী জানান যে, তাদের সবার একত্রে প্রায় তিন লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে এই বিষয়ে বারহাট্টা পল্লী বিদ্যৎ এর ইঞ্জিনিয়ার অর্ধেন্দু শেখর জানান যে, গত ১৩ অক্টোবর আমরা আমাদের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বন্ধ রেখেছিলাম।এত গরমের মধ্যে ঘোষণা না দিয়ে কেন সংযোগ বন্ধ রাখলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এটা আমাদের ভুল হয়েছে।তিনি আরও জানান যে সম্পূর্ণ ৩৩ কেবি লাইনের কাজ শেষ হতে আরো দুইদিন লাগবে।তবে তখন অবশ্যই পূর্বেই জানানো হবে। এমন অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা বিদ্যুৎ অফিসের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।