নেত্রকোণার বারহাট্টায় পঙ্গু বৃদ্ধকে মেরে বাড়ি থেকে বের করে দিল স্ত্রী ও সন্তানরা

মামুন কৌশিক, বারহাট্টা প্রতিনিধিঃ বাবা পৃথিবীর সবচেয়ে আপনজন।প্রতিটি বাবাই তার পরিবারকে বটবৃক্ষের মত আগলে রাখেন।কিন্তুু কখনও কখনও সেই বাবাই হয়ে উঠেন পরিবারের অতিরিক্ত জঞ্জাল যা দূরে সরানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠে পরিবার।

এমনই এক ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার হরিয়াতলা গ্রামে।হরিয়াতলা গ্রামের প্রায় ৫৫ বছর বয়সী মোঃ শাহজাহান মিয়া যার স্ত্রীর নাম কুলসুমা বেগম।দুই ছেলে ও চার মেয়ে নিয়ে সুখেই কাটছিল তার দিন।তিনি জীবিকার তাগিদে ঢাকা শহরে বালু টানা সহ সকল ধরণের কষ্টের কাজই করতেন এক সময়।হঠাৎ একটা দূর্ঘটনায় সব পাল্টে যায়।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায় যে, দূর্ঘটনায় এক পা ও হাতের একটি আঙ্গুল হারান শাহজাহান মিয়া।পরিবারের সাথে মনোমালিন্য শুরু তখন থেকেই।ভুক্তভোগী শাহজাহান মিয়া তৃতীয় মাত্রাকে জানান যে, তিনি দূর্ঘটনায় পরার পর থেকেই পরিবারের লোকজন থাকে অবহেলা করা শুরু করে।ভাত পানি দেওয়া বন্ধ করে দেয়।এমনকি বাড়ি থেকে মেরে বের করে দেওয়ারও অভিযোগ করেন এই বৃদ্ধ।বর্তমানে তিনি তার দরিদ্র বোনের বাড়ি আসমা ইউনিয়নের রৌহা গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন।

এই বিষয়ে শাহজাহান এর বোনের জামাই জানান যে, আমি নিজেই গরিব।তার মধ্যে এমন একজন রোগীকে লালন করা কষ্ট জনক হয়ে উঠেছে আমার কাছে।তরপরও মানবিকতার জন্য আমি আমার শালার দেখবাল করছি।সে এমন অবস্থায় যাবে কোথায়।তিনি আরও জানান যে,আমি বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দাবী জানাই তিনি যেন আমার শালাকে পরিবারের কাছে ফিরতে সাহায্য করেন।রৌহা গ্রামে বসবাস করা দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাইম মিয়া জানায় যে,

আমরা অনেক দিন ধরে এই বৃদ্ধকে আমাদের রৌহা গ্রামে থাকতে দেখতেছি।তিনি অনেক কষ্ট করছেন।আমাদের এলাকাবাসীর দাবী বারহাট্টা থানার ওসি স্যার,ইউএনও স্যার ও বারহাট্টা উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় এই বৃদ্ধকে তার বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন এবং বৃদ্ধের পরিবার যেন উনাকে আর নির্যাতন না করে সে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।ঘটনার বিস্তারিত জানতে বৃদ্ধ শাহজাহান মিয়ার বাড়ি হরিয়াতলা গ্রামে গেলে সেখানে তার স্ত্রীকে পাওয়া যায়নি।

বাড়িতে বৃদ্ধের ছোট দুই মেয়েকে পাওয়া গেলেও তারা তাদের বাবাকে কেন বাড়িতে রাখা হয়না এটা নিয়ে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।বৃদ্ধের স্ত্রী কুলসুম বেগমের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন যে, আমার স্বামী একটা পাগল। সে ঘরবাড়ি কেটে ফেলে এবং আমি সহ সন্তানদের মারে।একজন পা বিহীন পঙ্গু লোক কি করে ঘরবাড়ি কেটে ফেলে এমন প্রশ্নের কোন জবাব দিতে পারেননি ওই বৃদ্ধের স্ত্রী।

বিষয়টি জানতে বারহাট্টা থানার অফিসার ইন চার্জ মিজানুর রহমান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে,বিষয়টা খুবই দুঃখজনক।কোন পরিবারই তাদের বাবাকে বের করে দিতে পারেনা।তিনি আরও জানান যে, ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে এখনও কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি। যদি অভিযোগ দেওয়া হয় তাহলে আমি ওই বৃদ্ধের পরিবারের বিরুদ্ধে কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তির ব্যবস্তা করব।