নেত্রকোণার বারহাট্টার উপজেলার বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব ডা. ইন্নাস আলী

মামুন কৌশিক, বারহাট্টা প্রতিনিধিঃ ডা: ইন্নাস আলী ৩ সেপ্টেম্বর ১৯১৬ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম বিজ্ঞানী, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব। জাতীয় অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স ফেকালটির ডীন ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর।
তিনি ১৯৯৪ সালে জাতীয় অধ্যাপক মনোনীত হন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিশাল অবদানের জন্য ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের সেরা রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ‘স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার ‘ লাভ করেন।

তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (১৯৪৮-১৯৬৩), সায়েন্স ফেকালটির ডীন (১৯৬৮-১৯৭২) এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এর ভিসি (১৯৭২-৭৩)। তিনি পাকিস্তান এটমিক এনার্জি কমিশান এর সদস্য ছিলেন (১৯৬৩-৬৭), প্লানিং কমিশন এর সদস্য ছিলেন (১৯৭৬-৭৯), বাংলাদেশ সায়েন্স একাডেমীর প্রেসিডেন্ট ছিলেন (১৯৮৮-৯২) এবং বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান উপদেষ্ঠা ছিলেন ।

তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে এমএসসি ডিগ্রী লাভ করেন, তিনি ইলেকট্রনিক্স গ্রুপে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে Master’s of Electrical Engineering (MEE) ডিগ্রী লাভ করেন ১৯৪৭-৪৮ সালে।

অধ্যাপক ইন্নাস আলী জাতিসংঘের জেনেভায় অনুষ্ঠিত ১৯৫৮ ও ১৯৬৪ সালের “UN Conference on Peaceful Uses of Atomic Energy” সম্মেলনে পাকিস্তানের নেতৃত্ব দেন।
তিনি চেয়ারমেন মনোনীত হয়েছিলেন “Expert Committee of Organisation of Islamic Conference (OIC) for founding IFSTAD (1975-1979)” এর।
তিনি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ‘University Grants Commission’, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ‘Bangladesh Atomic Energy Commission’ (1973-1976);
তিনি প্রফেসর ছিলেন Nuclear Engineering, King Abdul Aziz University, Jeddah (1979-1982)

তিনি ছিলেন Rector of Independent University of Bangladesh (1990-91).

বাংলাদেশের দেশ সেরা বরেণ্য এই বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ ০৩ মে ২০১০ মৃত্যুবরণ করেন । ঢাকার বনানী কবরস্থানে তিনি শায়িত আছেন।
ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত ছিলেন এবং তাঁর ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে। তাঁর বড় ছেলে ও বড় মেয়ে মারা গেছেন। ছোট ছেলে ও মেয়ে আমেরিকায় বসবাস করছেন।