নীলফামারীতে বানভাসী ও মধ্যবিত্ত পরিবারে নেই কোন ঈদের আমেজ

 সাদিকুল ইসলাম সাদিক, নীলফামারী প্রতিনিধি: মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদ- উল আজহা। তবে প্রতি বছরের ঈদ- উল আজহার চিত্র আর এবারের চিত্র যেন আকাশ-পাতাল তফাৎ। বানভাসী ও মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোতে নেই কোন ঈদের আমেজে।

বন্যা কবলিতরা বলেন, এইবার বন্যায় আমাদের সব কেড়ে নিল। কোরবানি দেয়া তো দূরের কথা, ঈদের দিন পরিবারকে একটু সেমাই খাওয়াতে পারছিনা। ঈদ নিয়ে কথা হয় নীলফামারী জেলার শহর এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্থানীয় ও বানভাসী কিছু লোকজনের সাথে। আলোচনা করে জানা যায়, প্রায় ৯০ ভাগ পরিবারেই এবার নেই কোন ঈদের আমেজ।

গত মাসে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট তিন দফা বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষ এখনো দুর্ভোগে আছেন। বানের পানিতে কারো বাড়ি ভেঙেছে, আবার কারো ঘরে খাবার নেই। কেউ পানিবাহিত রোগ নিয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছেন। কারন বৈশ্বিক এ মহামারিতে অনেকেই চাকুরি হারা অবস্থায় আছেন। দীর্ঘদিন বেকার হয়ে থাকায় জমানো টাকা ভেঙ্গে খেয়েছেন অনেকেই।

নীলফামারী সদর উপজালার সংগলশী ইউনিয়নের ফরিদুল ইসলাম বলেন, উত্তরা ইপিজেডে চাকুরি করতাম হঠাৎ করেই চাকুরিটা চলে যাওয়ায় এবারে কোরবানি দিতে পারছি না। নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের ইসলাম বাগ এলাকার নাজিয়া পারভিন নামের এক গৃহিনী বলেন, তার স্বামী কাপড়ের ব্যবসা করত। কিন্তু করোনা আসার পর থেকে বেচা-কেনা নাই বলতেই চলে।

প্রতি বছর পশু কোরবানি দিলেও এবার দেয়া হচ্ছে না। ডোমার উপজেলার রিয়াদুল ইসলাম নামের এক শিক্ষক বলেন, আমি একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষক। প্রতিবছরই কোরবানি দিয়ে থাকি কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কোন বেতন-ভাতা না পাওয়ায় জমানো টাকায় এবং ধার দেনা করে কোন রকমভাবে বেঁচে আছি। ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের মুখের দিকে আর তাকানোর সাহস হারিয়ে ফেলেছি তাদের প্রশ্নের উত্তরের ভয়ে। এদিকে কোরবানির পশু বিক্রি না হওয়ায় খামারীরাও পড়েছে বিপাকে।

দীর্ঘদিন ধরে লালন-পালন করার পরও পশু বিক্রি না হওয়ায় বেশ চিন্তিত তারা। কিশোরগঞ্জ উপজেলার রাসেল নামের এক খামারী বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ২০ টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছিলাম। মাত্র ১২ টি গরু বিক্রি হয়েছে। বাকিগুলো বিক্রি না হওয়ায় খাওয়ার খরচ কিভাবে জোগাব ভেবে পাচ্ছি না।