নিষেধ মানছে না আছদগঞ্জের শুঁটকি দোকান, বাড়ছে করোনার ঝুঁকি

মোঃ রাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম নগরীর আছদগঞ্জ শুঁটকি পট্টির ব্যবসায়ীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোকান খোলা রেখেছেন। এমনকি বেতন বন্ধের হুমকিতে কর্মচারীদেরও দোকানে আসতে বাধ্য করছেন তারা। ফলে বাধ্য হয়ে চট্টগ্রাম ও বিভিন্ন জেলা থেকেও কর্মচারীরা দলে দলে ফিরছেন নগরে। এতে আছদগঞ্জ এলাকায় করোনা ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বেতন বন্ধের হুমকিতে ইতিমধ্যে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে কর্মচারীরা ফিরতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য নগরীতে লকডাউন চলছে। এই পরিস্থিতিতে লোকজনকে ঘরের বাহির না হওয়াসহ সব কিছু বন্ধ রাখার সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। ফলে নগরের সবকিছু দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকলে তা মানতে রাজি নন আছদগঞ্জের শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখেছেন।

এমনকি এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীদেরও বাধ্য করছেন নিয়মিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে ডিউটি করতে। যদি ডিউটি না করে, তাহলে বেতন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে অসহায় কর্মচারীরা পেটের দায়ে বাধ্য হচ্ছেন ডিউটি করতে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আছদগঞ্জের শুঁটকি পট্টির বেশিরভাগ দোকানই খোলা। পরে পুলিশ এসে কয়েকজনকে মারধর করে দোকান বন্ধ করে দেয়। আবার পুলিশ যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই খোলা হয় দোকানগুলো।

শুঁটকি দোকানে কর্মরত অনেক কর্মী নাম প্রকাশে অনিচ্ছা জানিয়ে বলেছেন; এমনিতেই চারদিকে আতঙ্ক চলছে। এর মধ্যে দোকান খোলা রেখে জেনেশুনে বিপদে মুখে ঠেলে দিচ্ছে মালিকরা। কিন্তু দোকানে না এলে বেতন দেবে না বলা হচ্ছে। তাই নিরুপায় হয়ে কাজে যোগ দিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, আমরা দোকান বন্ধ রেখেছিলাম। কিন্তু শুঁটকিগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে দোকান খুলেছি। কিন্তু পুলিশ এসে বন্ধ করে দিচ্ছে। তাছাড়া কর্মচারীরা দোকানে না আসলে বেতন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির বিষয়টি মিথ্যা বলে দাবি করেন তারা।

চট্টগ্রাম আছদগঞ্জ শুঁটকি পট্টি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাহেব মিয়া বলেন, ‘শুঁটকি একটি পচনশীল দ্রব্য। দ্রুত পোকার সংক্রমণ হয়। সেজন্য কিছু দোকান খোলা হয়েছিল শুঁটকিগুলো রোদে শুকানোর জন্য। কিন্তু পুলিশ এসে দোকান বন্ধ করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘তাছাড়া কর্মচারীদের বেতন দেবে না— এমন কথা কেউ বলেনি। যদি কোন কর্মচারী বলে বেতন পায়নি, তাহলে আমি নিজের পকেট থেকে তাদের বেতন দেবো।