নিয়মনীতি ছাড়াই গড়ে উঠেছে সৈয়দপুরে একাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক

সাদিকুল ইসলাম সাদিক, নীলফামারী প্রতিনিধি:  সরকারী অনুমোদন ছাড়াই সারা দেশের ন্যায় নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলাতেও ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, প্যাথলজি ও ক্লিনিক বাণিজ্য। শহরের কেন্দ্রস্থলসহ অলি-গলিতে রোগ নির্ণয়ের নামে চটকদার সাইনবোর্ডে ছড়াছড়ি। সরকারের নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা মতো নিয়ম কানুন তৈরী করে বছরের পর বছর অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

হাতুরে টেকন্যাশিয়ানরা মনগড়া রিপোর্ট তৈরী করে হাতিয়ে নিচ্ছেন ইচ্ছা মাফিক ফি। সংশি¬ষ্ট সূত্র জানায়, ডায়াগনষ্টিক সেন্টার চালু করতে প্রথমত ট্রেড লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্র, লোকেশন ম্যাপ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন, ইনকামটেক্স, ভ্যাট সার্টিফিকেট, প্রতিষ্ঠানের আয়তন, ডিপ্লোমা টেকনোলজিষ্ট কমপক্ষে তিন জন পরিচ্ছন্ন কর্মী ও ফায়ার ব্রিগেডের লাইসেন্স প্রয়োজন। কিন্তু এ শহরের ২/৪ জন ব্যবসায়ী ছাড়া স্কুল শিক্ষকসহ ভবঘুরেরা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার খুলে হাতুরে টেকন্যাশিয়ান দিয়ে চালাচ্ছেন রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা নিরীক্ষা। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে,

সৈয়দপুর শহরে গড়ে উঠেছে ৩২টি ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। ২/৪টি ছাড়া এসব রোগ নির্ণয়ের প্রতিষ্ঠানে হাতুরে টেকনেশিয়ান দ্বারা একই রোগ পরীক্ষায় রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে একেক রকমের। এছাড়া একই ধরনের প্যাথলজিকাল পরীক্ষার জন্য একেক ধরনের ফি ধার্য্য করা হয়েছে। যার ফলে ওইসব হযবরল রিপোর্ট নিয়ে রোগী ও স্বজনরা চরম বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। এ সত্ব্যেও ডাক্তাররা তাদের আদায়কৃত অবৈধ পার্সেন্টেসের দিকে লক্ষ্য রেখে ওইসব ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের সরবরাহকৃত টিক চিহ্ন দিয়ে রোগীদের সেখানে পাঠাচ্ছেন। সামান্য জ্বর, সর্দি, কাশি ও বুকের ব্যাথার কারণে একাধিক পরীক্ষার কথা লিখে দিচ্ছেন রোগীদের। নিজেদের চুক্তিকৃত ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের রিপোর্ট ছাড়া কোন ডাক্তারেরই রিপোর্ট গ্রহণ করেন না তারা।

রোগীদের পছন্দের ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের রিপোর্ট নিয়ে গেলে ওইসব ডাক্তাররা তাদের চুক্তিকৃত ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে পুনরায় পাঠাচ্ছেন রিপোর্ট আনার জন্য। সরকারী হাসপাতালের কর্মরত ডাক্তারসহ একাধিক চিকিৎসক রোগীদের জিম্মি করে তারা তাদের চুক্তিকৃত ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে দিচ্ছেন রোগ নির্ণয়ের রিপোর্ট করার জন্য। অভিযোগ রয়েছে ২/৪টি ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ছাড়া বাকীদের কোনটারই নেই কোন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। তারপরও তারা দাপটের সাথে রোগীদের একেক ধরনের রোগ নির্ণয়ের রিপোর্ট দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা।

অনেক প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে দামী দামী ডাক্তারের নাম লিখা থাকলেও ওইসব ডাক্তারদের সরেজমিনে গিয়ে পাওয়া যায়নি এবং নাম ব্যবহার বাবদ ওইসব ডাক্তারদের মাসিক ফি দেয়া হয় বলেও জানাযায়। সরকার নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে গড়ে ওঠা ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক মালিকদের তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার বিন্দুমাত্র দৃষ্টি নেই নীলফামারীর জেলার সিভিল সার্জেনের। ফলে রংপুর বিভাগের র‌্যাব প্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।