নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল সমুদ্র, জেলেরা নিরাপদ আশ্রয়ে

আনোয়ার হোসেন আনু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: নিম্নচাপের কারনে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। সাগেরে বড় বড় ঢেউ তীরে আচঁড়ে পড়ছে। সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ার ফলে কুয়াকাটাসহ সমুদ্র উপকুলীয় এলাকায় গত দু’দিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত ও দমকা হওয়া বইছে।

রবিবার সকাল থেকে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যাওয়ায় জেলেরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ করে প্রেতাশ্রয়ে ফিরতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে মৎস্য বন্দর আলীপুর-মহিপুরের শিববাড়িয়া নদীতে শত শত ট্রলার নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে।

খেপুপাড়া রাডার ষ্টেশন সূত্রে জানা গেছে,সমুদ্রে নিম্নচাপের কারনে বৈরী আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তবে পায়রা সমুদ্র বন্দরে কয়েকদিন ধরে তিন নম্বার স্থানীয় সতর্ক সংকেত অব্যাহত থাকায় সকল প্রকার মাছ ধরা ট্রলার গুলোকে পরবর্তী সংকেত না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, ইলিশ প্রজনন রক্ষায় ৬৫ দিনের অবরোধের পর গত দু’সপ্তাহ আগে জেলেরা সমুদ্রে ইলিশ শিকারে গিয়ে কম-বেশী সকল জেলেরা ইলিশ শিকারে সক্ষম হয়েছে।

তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর অপেক্ষাকৃত বড় বড় সাইজের ইলিশ ধরা পড়ছে। ইলিশ ধরা পড়লেও হাজার হাজার জেলেরা সমুদ্রে থাকা অবস্থায় বাঁধ সাধে প্রতিক‚ল আবহাওয়া। ক্রমান্বয়ে সাগর উত্তাল হতে থাকায় প্রচন্ড ঢেউয়ের তোড়ে টিকতে না পেরে নিরাপদ আশ্রয়ে তীরে ফিরেছে এসব জেলেরা।

এদিকে, আবহাওয়া খারাপের কারনে মাছ না থাকায় ব্যাবসা বানিজ্যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে আবহাওয়ার উন্নয়ন হলে এবছর ভাল সাইজের ইলিশ মিলবে বলে একাধিক ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। জেলে মোঃ জয়নাল মাঝি বলেন, কুয়াকাটা থেকে অন্ততঃ ৪০ কিলোমিটার গভীরে সাগরে মাছ ধরা অবস্থায় সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠে।

তারা সমুদ্রে টিকতে না পেরে জাল গুছিয়ে আলীপুর-মহিপুর বন্দরে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরেছেন। জেলে মো.কাওসার বলেন, কেবল ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে। এ অবস্থায় সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। তারা ৮ জন জেলে ট্রলার নিয়ে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।

মহিপুর মৎস্য আড়ৎ আল্লাহ ভরসা’র স্বত্তাধিকারী মো.তানভির আহম্মেদ লুনা বলেন, দু’দিন ধরে কোন মাছ নেই। সকল ট্রলারগুলো নোঙ্গর করা অবস্থায় ঘাটে রয়েছে। আবহাওয়া অনুক‚লে আসলে এসব ট্রলার আবার সাগরে যাবে।

আলীপুর ও কুয়াকাটা মৎস্য আড়ৎদার সমবায় সমিতির সভাপতি মোঃ আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, বর্তমানে সাগর উত্তাল রয়েছে। সব ট্রলারই এখন ঘাটে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সাগরে কোন দূর্ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি জানিয়েছেন।