নিজে হত্যা করে জ্বিনের দোষ দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না

মোঃরাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ আনোয়ারা উপজেলার চাতরী এলাকায় এক বৃদ্ধাকে হত্যা করে কানের দুল ছিনিয়ে নিয়ে পরে হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে কৌশলে জ্বিনে মেরে ফেলেছে এমন ঘটনা সাজায় হত্যাকারীরা। তাদের কৌশল বুঝতে না পেরে নিহতের পরিবার তা বিশ্বাস করে দাফনের কাজও শেষ করে। জ্বিনে মেরে ফেলেছে এমনটা বিশ্বাস করে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আনোয়ারা থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় ঘটনার পর থেকে তদন্তে নামে পুলিশ। বৃদ্ধার মৃত্যুর ১২ দিনের মাথায় পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে আসল ঘটনা।

 

পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় জাকির হোসেন (২৯) নামে হত্যাকারী। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার জাকির হোসেন সিলেট জেলার বিশ্বনাথ দৌলতপুর এলাকার রইছ আলীর ছেলে। তিনি আনোয়ারা চাতরী এলাকায় স্ত্রীসহ ভাড়া বাসায় থাকতেন। গ্রেফতার জাকির হোসেন হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে নিজে বৈদ্য সেজে বৃদ্ধাকে জ্বিনে মেরে ফেলেছে এমনটা প্রচার করেছিলেন এবং এমন ঘটনা সাজাতে তিনি বৃদ্ধার প্রতিবেশী তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে ব্যবহার করেছিলেন। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ বলেন, ‘ছখিনা খাতুন নামে এক বৃদ্ধা নিখোঁজ হয়েছিলেন ২২ এপ্রিল।

 

নিহতের পরিবার ২৩ এপ্রিল থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরে ২৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে তাদের বাড়ির পাশে একটি গোবরের স্তূপ থেকে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।’ ওসি দুলাল মাহমুদ বলেন, ‘হত্যার পর তাকে জ্বিনে মেরে ফেলেছে বলে দাবি করেন নিজেকে বৈদ্য পরিচয় দেওয়া জাকির হোসেন। নিহতের পরিবারও তা বিশ্বাস করে দাফন কাজ শেষ করে কিন্তু নিহতের মরদেহ দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়েছিল। থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়েরের পর পুলিশ তদন্তে নামে। তদন্তে জানা যায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। বৈদ্য পরিচয় দেওয়া জাকির হোসেনকে সন্দেহ হওয়ার পর থেকে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়।’ ওসি জানান, জাকিরকে পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে পুলিশের কাছে সে ঘটনা স্বীকার করে।

 

জাকির জানিয়েছে, বৃদ্ধার কানের দুল ছিনিয়ে নিতে তাকে হত্যা করেছে জাকির। জাকিরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে। ওসি দুলাল মাহমুদ বলেন, ‘বৃদ্ধা ছখিনা বেগমের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া কানের দুল চাতরী বাজারের মনিহার জুয়েলার্সে বিক্রি করে দেয় জাকির। সেই কানের দুল মনিহার জুয়েলার্স থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। জাকির মাদকসেবী বলে জানতে পেরেছি।’ নিহত ছখিনা বেগমের ছেলে আজাদুল হক বলেন, ‘২২ এপ্রিল সন্ধ্যার পর থেকে আমার মাকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। ২৩ এপ্রিল আনোয়ারা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।

 

২৪ এপ্রিল জাকির হোসেনের শ্বশুর আবদুল খালেক নামে এক প্রতিবেশী তার কাছে ভালো বৈদ্য আছে এবং তিনি মাকে খুঁজে দিতে পারবেন বলে জানান।’ আজাদুল হক বলেন, ‘মাকে খুঁজে পেতে মরিয়া হয়ে আবদুল খালেকের কথামতো বৈদ্য জাকিরের কাছে যাই আমরা। জাকির মাকে খুঁজে দিতে সাড়ে ৫ হাজার টাকা দাবি করে। তাকে সেই টাকা দিই। পরে জাকির আসন বসিয়ে জানায় আমার মাকে জ্বিনে মেরে ফেলেছে। আমার মাকে জ্বিনে মেরে বাড়ির পেছনে লুকিয়ে রেখেছে বলে জানায় জাকির। পরে তার কথামতো আমরা মাকে খুঁজে পাই। তার কথা মিলে যাওয়ায় আমরা সব বিশ্বাস করি। পরে দাফনও করে ফেলি কিন্তু পুলিশ তদন্ত করে জানতে পেরেছে জাকির মাকে হত্যা করেছে। পরে আমি বাদি হয়ে আনোয়ারা থানায় মামলা দায়ের করেছি।’