নিজে আক্রান্ত হয়েও অন্যদের সচেতন করার চেষ্টা কালকিনি পৌর মেয়র এনায়েত হোসেন

মোঃ ইকবাল হোসেন, কালকিনি প্রতিনিধি: সারা বিশ্ব যেখানে নোভেল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দিশেহারা। মানুষ যখন নিজে সেইভে থাকার জন্য ব্যস্ত তখনও নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে জন সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন কালকিনি পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এনায়েত হোসেন।

করোনা মোকাবেলায় সরকারী নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন হয়ে পরা পৌরবাসীর জন্য সরকারী বেসরকারী ভাবে সাহায্য প্রদানের জন্য কাজ করেছেন কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। কালকিনি পৌরসভায় করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি হিসেবে পৌরবাসীর সু-স্বাস্থ্য ও সচেতনতামূলক কাজ করেছেন অনবরত। জনসেবার জন্য পৌরবাসীর কাছে প্রিয় হয়ে ওঠা সেই প্রিয় ব্যক্তিই এখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত।

গত ১৩জুনের রিপোর্টে তার করোনা পজেটিভ হওয়ার রিপোর্ট আসে। তবে নিজে আক্রান্ত হলেও অন্যদের ভাইরাস মুক্ত রাখতে সচেতনতায় তিনি এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আক্রান্ত হওয়ার লক্ষন শুরুর আগেই তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। আর নমুনা পরীক্ষার জন্য দিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করেছেন। অনেকে নমুনা দিয়েও ঘুরে বেড়ায় কিন্তু মেয়র শুধু অন্যদের ভাইরাস মুক্ত রাখতে নিজে হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে সচেতনতার পরিচয় দিয়েছেন।

তার মতো এত বড় দায়িত্বে থেকে এটা করা খুবই মুশকিল। আর রিপোর্ট আশার পরে তিনি নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থেকেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কি কি সমস্যা হয় আর কি করলে তা থেকে উপসম মেলে তার বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে যতটা সম্ভব কর্মীদের কাছে ফোন করে সতর্ক করতে চেষ্টা করেছেন। কালকিনি উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগের অনেক নেতা জানায়, আগে যতটা বেপরোয়া ভাবে চলতাম কিন্তু মেয়র মহোদয় ফোন দিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে যে ভাবে সতর্ক করেছে তাতে এখন আর আগের মতো চলাফেরা করছিনা।

খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ঘর থেকে বের হচ্ছিনা। আর জরুরী প্রয়োজনে বের হলেও মাস্ক পরে হ্যান্ড স্যানিটাইজার মেখে বের হই। সাথে বাসায় ফিরে সাবান দিয়ে হাত মুখ ধোঁয়া, সাবান দিয়ে গোসল করা সহ পরিহিত কাপড়গুলো ডিটারজেন্ট পাউডারে ভিজিয়ে রাখি। উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সহ সকল সহযোগি অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী যারা মেয়রের করোনা পজেটিভ হওয়ার খবর পেয়েছেন তারা মেয়রের দ্রুত  সুস্থ্যতা কামনা করে দোয়া প্রার্থনা করছেন।