নিজেদের অভাব ঘোচাতে চীনা নাগরিক হত্যা জানালেন দুই গার্ড

পানি পান করতে চাওয়ার ছলে চীনা নাগরিক গাও জিয়ান হু’য়ের বাসায় ঢুকে তাকে হত্যা করে ওই বাসার দুই সিকিউরিটি গার্ড। নিজেদের অভাব ঘোচাতে তারা এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় দুজনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

হত্যাকারীরা হত্যার পর বাসায় থাকা নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা ও দামি জিনিস লুটে নিয়ে যায়। ওইদিন রাতেই গাওয়ের মরদেহ বাসার পেছনে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়। পরের দিন পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত চীনা নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই সিকিউরিটি গার্ড আব্দুর রউফ (২৬) ও এনামুল হককে (২৭)।মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তারের পর তাৎক্ষণিকভাবে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এসব তথ্য জানান।

বুধবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তুলে ধরেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন। গত ১১ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানীর ২৩ নম্বর সড়কের ৮২ নম্বর বাসায় চীনা নাগরিক গাও জিয়ান হু’কে হত্যা করে ওই বাসারই দুই নিরাপত্তাকর্মী। এরপর ওইদিন রাতেই চীনা নাগরিকের মরদেহ বাসার পেছনে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়।

বিষয়টি জানাজানি হলে পরদিন পুলিশ মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় গাওয়ের মরদেহ উদ্ধার করে। গাও বাংলাদেশে পদ্মা সেতুতে পাথর সাপ্লাই এবং কাপড়ের ব্যবসা করতেন। এরপর পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই নিরাপত্তাকর্মী রউফ ও এনামুলকে গ্রেপ্তার করে।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল বাতেন বলেন, ‘ওই বাসার দুই সিকিউরিটি গার্ড নিজের অভাব ও দৈন্যদশা কাটাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা করতো। একদিন দু’জন সিদ্ধান্ত নেন চীনা নাগরিক গাও অনেক বড় ব্যবসায়ী। বাসায় কেউ থাকেও না। তাকে হত্যা করতে পারলে দু’জন দ্রুতই ধনী হতে পারবেন। এই পরিকল্পনা থেকে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় দু’জন গাওয়ের বাসায় কলিংবেল চাপেন। পুলিশের এই কমকর্তা বলেন, গাও দরজা খোলার পর তারা পানি পান করতে চান। এরপর গাওয়ের পেছন পেছন রুমে ঢুকেই একজন গামছা গলায় পেঁচিয়ে ধরেন, আরেকজন ঝাপটে ধরেন। এক পর্যায়ে গাওয়ের গলা দিয়ে রক্ত বের হলে তারা দু’জন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন।

পরে বাসায় থাকা নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা, মোবাইল, ল্যাপটপ নিয়ে ছাদে চলে যান। দু’জন টাকা ভাগাভাগি করে আলাদা হয়ে যান।’ তিনি জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিকিউরিটি গার্ড আব্দুর রউফ ডিউটিতে ওই বাসায় আসেন। পরে গাওয়ের ফ্লাটে প্রবেশ করে মরদেহ নিয়ে লিফটে নামেন এবং বাসার পেছনে পরিত্যাক্ত জায়গায় কাঠের টুকরো দিয়ে গর্ত করেন। এরপর মাটি চাপা দিয়ে আবারো ডিউটিতে চলে যান। তিনি বলেন, ১১ ডিসেম্বর সকালে গাওয়ের কাজের মহিলা বাসায় এসে দেখেন কেউ বাসায় নেই এবং সবকিছু তছনছ। তিনি সঙ্গে সঙ্গে নিচে ডিউটিতে থাকা সিকিউরিটি গার্ডকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে এই চীনা নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করে।