“না বাধলে বেরি বাঁধ, কৃষকের মাথায় হাত” বারহাট্টায় সিংগুয়ার বেরি বাঁধ সংস্কার কাজ পরিদর্শন

মামুন কৌশিক, বারহাট্টা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণা জেলাধীন বারহাট্টা উপজেলার চিরাম ইউনিয়নে সিংগুয়ার বিল অবস্থিত। যার চারপাশে পুটাকিয়া, রামারবাড়ি, সাবাদিয়ার বাড়ি, নৈহাটীসহ উপজেলার আসমা ও বাউসী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের অবস্থান। এই বিলে পার্শ্ববর্তী গ্রাম মিলিয়ে মোট ৩০০ হেক্টর নিচু জমি রয়েছে, যা এক ফসলী জমি হিসেবে পরিচিত। যা দিয়ে আশপাশের সকল গ্রামের কৃষকরা সারা বছরের জীবিকা নির্বাহসহ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের খরচ যোগায়।

বিলের উত্তর পার্শ্বে কংশের শাখা গুমাই নদী রয়েছে। প্রতি বছর বৈশাখ মাসের মাঝ দিকে ভারতের মেঘালয় থেকে পাহাড়ী ঢল দুর্গাপুরের সুমেশ্বরী নদী থেকে কংস হয়ে গুমাই নদীতে পৌছে সিংগুয়ার বিলের বাঁধে অাঘাত করে। গত বছর (২০১৯) এ সময়ে কৃষকরা তাদের ফসল কাঁটার আগেই পানির চাপে বাঁধটির একাংশ ভেঙ্গে গিয়েছিল। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি বিভাগসহ এলাকার সকল কৃষকদের রাত-দিনব্যাপী অক্লান্ত পরিশ্রম করে বাঁধের পানি প্লাবিত হওয়া অংশ মেরামতের ফলে কৃষকরা তাদের ফসল তুলতে সক্ষম হয়েছিল। তাই এবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম মোরশেদ এবং উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাইমিনুর রশিদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে বৈশাখের প্রথম দিকেই বেরি বাঁধ সংস্কারের কাজ সমাপ্ত করেছেন। বাঁধের ০৩ (তিন) টি পৃথক স্থানে ০৩ (তিন) টি প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্কার কাজ সমাপ্ত হয়।

আজ সমাপ্ত কাজ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম মোরশেদ, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আক্তারুজ্জামান। এ সময় সঙ্গে ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাইমিনুর রশিদ, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী কিবরিয়া, প্রকল্পের সভাপতিগণ, সাংবাদিকবৃন্দ সহ এলাকার জনগণ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রকল্পের সভাপতিদের ধন্যবাদ দিয়ে জানান, প্রতিবছরই ভারতের মেঘালয় থেকে পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙ্গে যায়, তাই এবার পাহাড়ি ঢল আসার পূর্বেই বাঁধের কাজ সমাপ্ত করতে সক্ষম হয়েছি।

এ বিষয়ে কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ বলেন, বাঁধের সংস্কার কাজ সমাপ্তের ফলে আশাকরছি এবার কৃষক সময়ের মধ্যেই তাদের কাঙ্খিত সোনালী ফসল ঘরে তুলতে পারবে। কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “যত তারাতারি সম্ভব আপনাদের ফসল কাঁটা শুরু করুন, দয়াকরে কেউ অন্য ফসলের দিকে তাকিয়ে থাকবেন না”। পুটাকিয়া গ্রামের কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, আজ পর্যন্ত তারা সিংগুয়া বিলের ২৫% জমির ধান কর্তন করতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের ভাষ্যে “আল্লাদিলে যেবায় দিনডি দিতাছে, এবায় আর ৭-৮টা খরান দিলেই বেকটা ধান উডাইলবাম”।