না.গঞ্জে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে শামীম ওসমান, নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর শোক এবং সমবেদনা

মোঃ আরিফুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিম তল্লার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় সঠিক তদন্ত চেয়েছেন এমপি শামীম ওসমান। শুক্রবার ৪ঠা সেপ্টেম্বর রাতে বিস্ফোরণের পরদিন শনিবার দুপুর দেড়টায় এমপি শামীম ওসমান মসজিদ পরিদর্শন আসেন।

তিনি মসজিদের ভেতরে ঘুরে দেখেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তিনি এ ঘটনায় নিহত ও আহতদের প্রতি গভীর শোক এবং সমবেদনা জানানিয়ে বলেন ‘ঘটনাটিকে তুচ্ছভাবে দেখার কোন সুযোগ নাই। এটা ছোট কোন জিনিস না।

শুধু গ্যাসের কারণেই এত বড় বিস্ফোরণ ঘটেছে এটাকেই প্রাধান্য দিয়েই শেষ করা যাবে না। কারণ এর আগেও আমাদের উপরেও ১৬ জুন বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। সে কারণেই আমি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্টদের আহবান জানাব।’ তিনি বলেন, ‘আমি কোন এক্সপার্ট না। আমি সে কারণেই এক্সপার্টদের দিয়ে গভীরভাবে তদন্তের কথা বলছি।

এটা এসির বিস্ফোরণ কি না সেটাও তদন্ত করা উচিত। তবে সচরাচর এসির গ্যাস সিলিন্ডার থাকে বাইরে। সেটা ভেতরে বিস্ফোরণ কথা না। তাছাড়া গ্যাসের কথা বলা হচ্ছে। যদি এতই গ্যাসের রিজার্ভ থাকতো তাহলে সেটা তো মাগরিবের সময়ে কিংবা এশার আগে দরজা খোলার কারণে বের হয়ে যেত।’ শামীম ওসমান এমপি আরও বলেন, যেহেতু অনেক ঘটনা ঘটেছে। আমার উপরও ১৬ জুনের বোমা হামলা হয়েছিল। হযরত শাহজালাল রহ. এর মাজারে হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল।

আমি বলছি না এর সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে। তবে আমি এর গভীর তদন্ত চাই।’ তিনি বলেন,দয়া করে এ ঘটনায় কোন পারসেপশন তৈরি করবেন না। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন জরুরী। শুক্রবার রাতে এশার নামাজের সময় ওই মসজিদে একসঙ্গে ছয়টি এসি বিস্ফোরিত হয়ে অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি অগ্নিদগ্ধ হন। ইতোমধ্যে বিস্ফোরণের ঘটনায় মসজিদের মুয়াজ্জিন, স্কুল ছাত্র সহ ১৩ জনের মৃত্যু ঘটেছে।

মৃত ১৩ জন হলেন মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন (৪৮), রিফাত (১৮), মোস্তফা কামাল (৩৪), জুনায়েদ (১৮), সাব্বির (২১), কুদ্দুস ব্যাপারী (৭২), হুমায়ুন কবির (৭০), ইব্রাহিম (৪৩), জুনায়েদ (১৭), জামাল (৪০), জুবায়ের (৭) ও রাসেল (৩৪),জয়নাল(৫০)। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারী হান্নান মিয়া নিজেও এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।

তিনি কয়েকদিন আগেও তিতাস গ্যাসকে এ লাইন সংস্কারের কথা বলেছিলেন। কিন্তু তিতাস তখন ৫০ হাজার টাকা দাবী করেন। টাকা না দেওয়ার কারণে লাইন মেরামত বা সংস্কার করেনি। ফলে লিকেজ হয়ে অন্য দিনের মতই গ্যাস জমে যায় মসজিদে। আর গরমের কারণে এসি চালানোর ফলে বাতাস বের হতে না পারায় গ্যাস জমে বিস্ফোরন ঘটে। আর সেই থেকেই মূলত দুর্ঘটনা ঘটেছে।