নাসিরনগরে হত্যা মামলার বাদিকেও হত্যার হুমকী মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা

বাবুল সিকদার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে সংঘর্ষের জের ধরে রাজিব (২০) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের লোকজন।এনিয়ে নিহতের পিতা ইছুব আলী বাদি হয়ে নাসিরনগর থানায় ২৬ জনের নাম উল্লেখ ও আরো ৮/১০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার দায়ের করার পর থেকে প্রতিপক্ষের লোকজন মামলা তুলে নেয়ার জন্য হত্যার হুমকী দিতে থাকে। এছাড়া রাজিবের পরিবার ও মামলার স্বাক্ষীসহ আশপাশের লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার জন্যও চেষ্টা করছেন তারা। এদিকে ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে আহাজারি করছেন রাজিবের পরিবারের লোকজন। নানান চাপে ন্যায় বিচার না পাওয়ার আশংকা করছেন তারা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের বড়নগর এলাকার একটি কালভার্টে বসে ইছুব আলী মিয়ার ছেলে রুবেল ও তার বন্ধুরা ঝালমুড়ি খাচ্ছিল। এসময় একই এলাকার রাসেল, তানভীর, মামুন, জসিম ও কবিরের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। পরে রুবেলের ভাই রাজিব গিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করে দিয়ে ও তার ভাইকে নিয়ে বাড়ি চলে আসে। পরে রাত অনুমান সাড়ে আটটার দিকে একই এলাকার ছাবিল মিয়ার ছেলে হাসান মিয়া রাজিবের বাড়িতে গিয়ে তাকে ডেকে বাহিরে নিয়ে আসে। পরে রাসেল, তানভীর, মামুন, জসিম ও কবিরসহ আরো অন্যান্য আসামীরা রাজিবকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। এনিয়ে রাজিবের বাবা ইছুব আলী বাদি হয়ে ১৭ এপ্রিল রাতে সাবেক মেম্বার আব্দুল করিমসহ ২৬ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত অন্তত ৮/১০ জনকে অসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলা দায়ের করার পর থেকেই মামলার বাদি ও নিহতের পরিবারকে প্রতিনিয়ত মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকী দিচ্ছে আসামী ও তার পক্ষের লোকজন।পাশাপাশি নিজেদের মালামাল নিজেরাই সড়িয়ে নিয়ে বাদি পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করার পায়তারা করছেন তারা। এদিকে নিজেদের জমির পাকা ধান নিজেরাই কেটে নিয়ে মামলার বাদি ও স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য চেষ্টা করছেন।

তবে ধান কেটে নেয়ার সময় আসামী পক্ষের জাহের মিয়া, ছিদ্দিক মিয়া, ছিনু মিয়া, জিল্লু মিয়া, জলিল,নিয়ামুল, শাহনেওয়াজ, তাজুল, কুদ্দুস মিয়া, সৈয়দ আমিনুল হক ও অহিদ মিয়া এলাকার গণ্যমান্য লোকজনের কাছে লিখিত দিয়ে তাদের ধান কেটে নিয়েছেন। মোকাম বাড়িতে আসামীরা নিজেদের মালামাল নিজেরাই রেখেছেন উল্লেখ করে সুন্দর আলী মিয়া জানান, আসামীপক্ষের তাজুল ইসলাম,জালালসহ আরো কয়েকজন আতঙ্কিত হয়ে নিজেরাই তাদের মালামাল আমার বাড়িতে রেখে যান। আমি তাদের মানা করা সত্বেও তারা জোর করে আমার বাড়িতে মালামালগুলো রেখে যান। এই বিষয়ে রাজিবের মা পেয়ারা বেগম জানান, আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে নিজের ঘর থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই। আর যেন কোন মায়ের বুক খালি না হয়। রাজিবের বাবা ও মামলার বাদি মো. ইছুব আলী জানান, মামলা করার পর থেকে প্রতিনিয়ত আমাকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য হুমকী দিচ্ছে। আমাকে ও আমার পরিবারকেও হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে বলেও হুমকী দিচ্ছে আসামীরা। তাদের ভয়ে আমি মামলায় ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছি।

এছাড়াও পরিকল্পিতভাবে আমার ও আমার পরিবারসহ স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার চেষ্টা করছে আসামীরা। এদিকে মামলা হওয়ার পর থেকে আসামীরা এলাকাছাড়া রয়েছেন। তবে আসামী পক্ষের লোকদের দাবী, গত ১৬ এপ্রিল রাজিবের মৃত্যুর খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাতেই তাদের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট শুরু করে বাদি পক্ষের লোকজন। পুলিশের কাছে লুটপাটের বিষয়ে মামলা করতে চাইলে পুলিশ মামলা নিচ্ছে না। এই বিষয়ে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমান জানান,নিহতের পিতা বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামীদের গ্রেফতার করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে এবং দুইজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হামলা ও লুটপাটের বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।