নারায়ণগঞ্জে মসজিদে এসি বিস্ফোরণ: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২

নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা এলাকায় বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এসি বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন এ তথ‌্য জানান। বর্তমানে যে ২৬ জন শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধনে রয়েছে তাদের কেউই শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন ডা. সামন্ত লাল সেন। সবার শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। এর আগে রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রথম মৃত্যু হয় জুয়েল নামের এক সাত বছরের শিশুর।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৯ টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদরের বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এশার ফরজ নামাজ শেষে সুন্নত নামাজ আদায় করছিলেন মুসল্লিরা। এসময় মসজিদে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই পুরো মসজিদে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। আগুনের খবরে এলাকায় আতংক দেখা দেয়।

তল্লা এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাত পৌনে ৯টায় মসজিদের ভেতরে থাকা এসি বিস্ফোরিত হয়। এতে মসজিদের ভেতরে মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন তারা। এসময় অনেকেই দগ্ধ ও আহত হন। স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে দেখেন, মাটিতে পড়ে আছে বহু মানুষ। মসজিদের ভেতরে থাকা ৬টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের সবগুলো বিস্ফোরিত হয়েছে। বিস্ফোরণে এসির যন্ত্রাংশ বেরিয়ে গেছে। ভেঙ্গে গেছে মসজিদের ভেতরের সব কাঁচের দেয়াল। মসজিদের ফ্যানগুলোও বাঁকা হয়ে গেছে। বিস্ফোরণে অনেকেই দগ্ধ হয়েছেন, আতংকে হুড়োহুড়ির কারণে আহতও হয়েছেন অনেকে।

দগ্ধদের উদ্ধার করে প্রাথমিকভাবে স্থানীয় ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে দগ্ধদের পাঠানো হয়, রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।

শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক ডাক্তার সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীনদের বেশিরভাগেরই অবস্থা আশংকাজনক। অনেকেরই শ্বাসনালীসহ শরীরের বড় একটি অংশ পুড়ে গেছে। তাদের চিকিৎসায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের সঙ্গে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা অন্যান্য চিকিৎসকরাও যোগ দিয়েছেন।

রাতেই বার্ন ইনস্টিটিউট ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন ও পুলিশ সুপার জাহেদুল আলম । তারা জানান কিভাবে এই ঘটনা হলো তা, তদন্ত করে দেখা হবে।

এদিকে মসজিদে থাকা গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকেই এই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, মসজিদের সামনের রাস্তায় গ্যাসের পাইপ লাইন ছিলো। তার ওপরই স্থাপন করা হয়েছিলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের মূল অংশ। তাদের ধারণা ওই গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে কোনভাবে আগুন লেগে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় দশ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথাও জানান তিনি।