নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ভাইয়ের প্রতারণায় কোটিপতি সেনা ৯ বছরে নিঃস্ব!

সাজেদুর রহমান, নাটোর প্রতিনিধি: করপোরাল পদে সেনাবাহিনীর চাকুরীর পাশাপাশি কুয়েতে তিনটি মিশন সম্পন্ন করেন তিনি। অবসরের সময় তিনি ছিলেন কোটিপতি। অপরদিকে তার আপন বড়ভাই পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে বিভিন্ন থানায় মুন্সির দায়িত্ব পালন করতেন। তিনিও রিটায়ার্ড করেন। এরপর দুইভাই মিলে পরামর্শ করে ভূষি মালের ব্যাবসা করেন। আর এরপাশাপাশি নিজে আখের গোছাতে থাকেন অতি কৌশলে। সর্বশেষ ওই সেনা সদস্যকে দিয়ে ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ করেন। ওই সময় সেনা সদস্য নিজ লিচুবাগানের দলিল অপরদিকে পুলিশ সদস্য জমা দেন নিজ গোডাউনের দলিল। কিন্তু টাকাগুলো হাতিয়ে নেন এই বলে যে, বাড়ির কাউকে জানানোর দরকার নাই। তিনি ঢাকায় প্লট কেনা-বেচার ব্যাবসা করে ওই টাকাসহ লাভের বড় অংশ সেনা সদস্যকে দেবেন। কিন্তু কিছুদিন পর ওই ঋণ পরিশোধের কথা বলে হুমকি দিয়ে ওই সেনা সদস্যর বাড়ি লিখে নেন নিজ নামে, সাথে লিচু বাগানও। কিন্তু অদ্যবধি ব্যাংকের ঋণও পরিশোধ করেননি তিনি।
এরপর এখন পরিবারসহ বাড়ি ছাড়া করার চেষ্টা করা হচ্ছে-এমন অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। আপন বড় ভাইয়ের এমন কাজ আর নিজ বোকামীতে মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে বর্তমানে স্ট্রোক করে বিছানাগত ওই সেনা সদস্য। প্রায় দিনই না খেয়ে তিন সন্তান নিয়ে শঙ্কায় দিনাতিপাত করছে তার পরিবার।
২০১১ সালে রিটায়ার্ড করা ওই কোটিপতি সেনা এখন নিঃস্ব! অপরদিকে বর্তমানে সাবেক ওই পুলিশ সদস্য আখের গুছিয়ে একটি ট্রাক, একটি নোহা মাইক্রোবাস, নাটোর শহরের কান্দিভিটুয়া এলাকায় দুইটি বাড়ি ও দুইটি মোটরসাইকেলের মালিক।
নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার বিলগেপালহাটী এলাকার ঘটনা এটি।
ভুক্তভোগী ওই সেনা সদস্যর নাম আমিন উদ্দিন শেখ। তিনি ওই এলাকার কুদরত আলী শেখের ছেলে। অপরদিকে অভিযুক্ত ওই পুলিশ সদস্যর নাম কাজেম উদ্দিন শেখ।

এব্যাপারে ভুক্তভোগীর স্ত্রী জহুরা বেগম বাদী হয়ে বাগাতিপাড়া আমলি আদালতে কাজেম, তার ছেলে রানা ও স্ত্রী রানু বেগমের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় বাদী অভিযোগ করেছেন, ২ বছর আগে কাজেম তার স্বামীর মাধ্যমে ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ করিয়ে তাৎক্ষণিক ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা নেয়। সম্প্রতি ওই ঋণের টাকা পরিশোধের চাপ দিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর ৬ শতক জমি ও ৩৫ শতক লিচু বাগান কাউকে না জানিয়ে লিখে নেয়।
৬ শতক জমি রেজিস্ট্রির দলিলসূত্রে দেখা যায়, দলিলের লেখক কিয়ামত আলীর ছেলে আবুল হাশেম। দলিলটি হেবার ঘোষণা। দলিলের সনাক্তকারী আজাহার আলীর ছেলে অপর মোহরী আবুল হোসেন। স্বাক্ষী দাতা গ্রহিতার অপর ভাই আব্দুল কুদ্দুস। অপর স্বাক্ষী দলিল লেখক হাশেমের ছেলে মজিবর রহমান।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বাক্ষী আব্দুল কুদ্দুস জানান, দলিল রেজিষ্ট্রির সময় তিনি উপস্থিত ছিলেননা। পরে জেনেছেন যে তার নাম দেয়া হয়েছে। সনাক্তকারী আবুল জাানান, তিনি সই করেছেন কি-না তা মনে নেই। এব্যাপারে জানতে চাইলে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি দলিল লেখক।

এব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কাজেম জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ মিথ্যা। এক প্রশ্নের জবাবে কাজেম জানান, পারিবারিক জটিলতার কারণে তিনি ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করেননি। এর বাইরে তিনি কোন মন্তব্য করতে চাননি।
ভুক্তভোগী আমিন উদ্দিনের স্ত্রী জানান, অভিযুক্ত কাজেম তাদের বাড়িছাড়া করতে প্রায়ই হুমকি-ধামকও দিচ্ছেন। এর বিরুদ্ধে তার স্বামী বাদী হয়ে অতিরিক্ত জেলাম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ১৪৪ ধারামতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন।

বাগাতিপাড়া থানার ওসি নাজমূল হক জানান, তিনি আদালতের আদেশ পেয়েছেন। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে।

অসুস্থ্য আমিন উদ্দিন ও তার স্ত্রী বলেন, ভাইয়ের দরদের সুযোগ নিয়ে কাজেম তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তাদের নিঃস্ব করেছে! ছলনা করে সমস্ত টাকা আত্মসাৎ ও তাদের জমি লিখে নিয়ে তাদের সাথে প্রতারণা করেছে। এখন তাদেরকে বাড়িছাড়া করার চেষ্টা করছে। এখন তারা তিনটি সন্তান নিয়ে অনাহার আর শঙ্কায় দিনাতিপাত করছেন।
এব্যাপারে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের খোয়া যাওয়া টাকা ও জমি যাতে ফেরৎ পান সে ব্যাপারে সরকার ও প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তারা।