নাটোরের গুরুদাসপুরে যৌতুকের দাবীতে গৃহবধুকে হত্যা, স্বামী-শশুর ও শাশুরী আটক

আল-আফতাব খান সুইট, নাটোর প্রতিনিধিঃ নাটোরের গুরুদাসপুরে বিয়ের বছর পূর্তির আগেই যৌতুকের দাবীতে শাকিলা আক্তার শারমিন (২২) নামে এক গৃহবধুকে মারপিট শেষে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরে সেটাকে আত্নহত্যা বলে চালিয়ে দিতে গলায় ফাঁস দিয়ে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের পোয়ালশুড়া কান্দিপাড়া গ্রামে বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই লাশ উদ্ধার এবং ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে গৃহবধুর স্বামী আরিফুল ইসলাম সোহাগ হোসেন (২৭), তার বাবা নাজিম উদ্দিন এবং মা আয়শা বেগমকে আটক করে। শারমিন পাশ্ববর্তী বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের ফারুক হোসেন ফকিরের মেয়ে।

পুলিশ ও স্থাণীয় সূত্রে জানা যায়, শারমিন ও সোহাগের  প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে ১০ মাস আগে পারিবারিক ভাবেই বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবীতে শারমিনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে সোহাগ। টাকা পেলে কিছু দিন থেমে আবার নতুন করে বায়না ধরে এভাবেই চলছিল সংসার।  শারমিনের বাবা ফারুক হোসেন বলেন, বিয়ের পর থেকেই জামাই সোহাগ, তার মা-বাবা মিলে আমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করতো।

আমি মুখ বুজে মেয়ের সুখের জন্য বিভিন্ন সময় তিন লক্ষাধিক টাকা দিয়েছি। এখন আবার ফ্রিজ কিনে চায়। আমি বলেছিলাম সামনে কোরবানিতে বাড়িতে পোষা গরু দুটি বিক্রে করে ফ্রিজ কিনে দিবো। কিন্তু এই সময় টুকু তারা দিলো না। আমার মেয়েকে মেরে ফেললো। আমি এই নরপশুদের কঠিন বিচার চাই। শারমিনের মা বলেন, আমার মেয়েকে তারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যার নাটক করেছেন।

আমার মেয়েকে তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে নিযার্তন করে হত্যা করেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, শারমিনের গলা পুরনো কাপড়ের তৈরী রশি দিয়ে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলে রয়েছে। কিন্তু তার পা দুটো খাটের সাথে ঠেকে আছে। এ বিষয়ে পরিবারের লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে কোন উত্তর দিতে পারেন নাই। এ সময় তার ঘর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। যাতে লেখা আছে তিন লক্ষ টাকা দিয়েও আমার শ্বাশুড়ির মন ভরে নাই।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতার্ (ওসি) মোজাহারুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্বার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মেয়ের পাশে পড়ে থাকা চিরকুট অনুযায়ী আপাতত আত্নহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা নেয়া হয়েছে। একই সাথে শারমিনের স্বামী, শ্বশুড় ও শ্বাশুড়িকে আটক দেখানো হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পেলে সঠিক কারন জেনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।