নাটোরেন লালপুরে অশিতিপর বিধবাদের পাশে দাঁড়াল প্রাকীর্তি ফাউন্ডেশন

সাজেদুর রহমান, নাটোর প্রতিনিধিঃ লালপুর উপজেলার উত্তর লালপুর মন্ডল পাড়া গ্রামে বয়সের ভারে প্রায় ৩ বছর ধরে শয্যসয়ী মমতাময়ী বিধবা মা আমেনা বেওয়াকে নিয়ে জরাজীর্ণ ছোট্টো একটি কুড়ে ঘরে বসবাস করেন মুনজু। তিনি নিজেও বিধবা।

বিষয়টি লালপুরে পাবলিক লাইব্রেরীর নজরে আসলে রোববার (১ নভেম্বর) প্রাকীর্তি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ও লালপুর পাবলিক লাইব্রেরীর ব্যবস্থাপনায় বিধবা মা মেয়ের জন্য ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ বয়সের ভারে শয্যাসয়ী ৮০ বছরের মমতাময়ী বিধবা মা আমেনা বেওয়াকে নিয়ে জরাজীর্ণ ছোট্টো একটি কুড়ে ঘরে বসবাস করেন ৬০ বছরের বিধবা মেয়ে মুনজু।

বিধবা মা মেয়ের থাকার জন্য ঘরে নেই কোন শোবার জন্য চৌকি, স্যাঁতস্যাঁতে কাদামাটিতে কুড়ানো পলিথিনের উপরে খেজুর পাতার পাটি। মা-মেয়ের সংসার চলে প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে তা বিক্রি করে। মেয়ে মনজু সারা দিন বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করে সংসার চালান। মা নিজে উঠে দাঁড়াতে পারে না। সমস্ত কাজ মেয়েকেই সম্পন্ন করে দিতে হয়। মা – মেয়ের এমন মানবেতর জীবনযাপনে মেয়ে মুনজু বলেন, আসছে শীতে স্যাঁতস্যাঁতে কাদামাটিতে কিভাবে থাকবে শয্যাশায়ী বিধবা মা আমেনা তা নিয়ে আমি চিন্তিত।

একটু মাথা গোঁজার ঠাঁয়ের জন্য চেয়ারম্যান মেম্বার সহ অনেকের কাছে ঘুরেছি, সবাই আস্বস্ত করেছে কিন্তু কেউ সহযোগিতা করেনি। প্রাকীর্তি ফাউন্ডেশন এগিয়ে এসেছে, সেজন্য তাদের কাছে আমরা মা- মেয়ে চির কৃতজ্ঞ। এ বিষয়ে প্রাকীর্তি ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও লালপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক পলাশ জানান, লালপুরে পাবলিক লাইব্রেরীর উদ্যোগে প্রাকীর্তি ফাউন্ডেশনের সার্বিক সহযোগিতায় বিধবা মা মেয়ের জন্য ঘর নির্মান করে দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগীতা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রাকীর্তি ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও লালপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক পলাশ, পাবলিক লাইব্রেরীর সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ, ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক হাসিবুল ইসলাম, পরিচালক প্রভাষক আমজাদ হোসেন, লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক খাজা শামীম মো: ইলিয়াস হোসেন , সদস্য গোলাম কিবরিয়া, পাবলিক লাইব্রেরীর সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ প্রমূখ ।