নন্দীগ্রামে রাস্তার বেহাল দশা, ৪০ বছর ধরে জনদুর্ভোগ

নিয়াজ মোর্শেদ নাইম, দুপচাঁচিয়া উপজেলা প্রতিনিধি:  বগুড়ার নন্দীগ্রামে জনগুরুত্বপূর্ণ ৩ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার ৪নং থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের চাঙ্গইর হতে চাঁপাপুর পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার রাস্তার এমন বেহালদশা। যে রাস্তা দিয়ে চলাচলে একেবারেই অনুপযোগী। এই জনগুরুত্বপূর্ণ ৩ কিলোমিটার রাস্তার কার্পেটিং কাজ না হওয়ার কারণে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এমন জনদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ প্রায় ২০ হাজার মানুষের।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, বৃষ্টিপাতের কারণে এই রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে অনেক বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। যে সব গর্তে কাদা-পানি জমে থাকে। এ কারণে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের রাস্তা চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে এই রাস্তা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করার আর কোনো উপায় থাকে না। এই রাস্তার বেহালদশার কারণে বর্ষাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত যেতে পারছে না। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন নিমাইদিঘী ডিগ্রী কলেজ, অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ও গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে থাকে।

এ ছাড়াও এই কর্দমাক্ত রাস্তা পাড়ি দিয়েই হাট-বাজারে যেতে হয় এলাকাবাসীর। নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিরা এই রাস্তাটির কার্পেটিং কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচনের পরে আর কেউ এই রাস্তার কথা মনে রাখে না। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, নেতা আসে নেতা যায় কিন্তু এই রাস্তার কার্পেটিং কাজ আর হয় না। বর্ষাকাল এলেই প্রতিবছর এই রাস্তা দিয়ে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। হাটু সমান কাদামাটি পেরিয়ে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হিমশিম খেতে হয় এলাকাবাসীর।

৪নং থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, এই রাস্তাটি ৪০ বছর ধরে কাঁচাই রয়ে গেছে। তাই প্রতিবছর বর্ষাকালে রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে, এই এলাকার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ ১০ গ্রামের মানুষ স্বাভাবিকভাবে রাস্তায় চলাচল করতেই পারে না। এমপি বদলায় কিন্তু বদলায় না আমাদের এলাকার এমন জনদুর্ভোগ। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী শারিদ শাহনেওয়াজ বলেন, চাঙ্গইর থেকে চাঁপাপুর পর্যন্ত রাস্তার প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। সেই প্রকল্প পাস হলেই টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজ করা হবে।