নওগাঁর আএাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে গ্রাম-ফসল ভেসে গেছে

আব্দুর রশীদ তারেক,নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দা উপজেলার আত্রাই ও ফকিন্নি নদীর বেড়িবাঁধের দুটি স্থান ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা চকবাড়িয়া এলাকায় মূল বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ইপচে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টও ফসলি জমি ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নওগাঁ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১০টায় মান্দা উপজেলা জোতবাজার পয়েন্টে আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নওগাঁ শহরের লিটন ব্রীজ পয়েন্টে ছোট যমুনা নদীর পানি বিডদসীমার সেনিাটমিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছিল। বাঁধ ভেঙ্গে চারটি গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ।

মান্দা উপজেলার পার নুরুল্লাবাদ এলাকার গতকাল মঙ্গলবার রাতে আত্রাই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গ্রাম ও সেখানকার ফসলের মাঠ প্লাবিত হয়েছে। পার নুরুল্যাবাদ মন্ডলপাড়া এলাকায় আজ বুধবার সকালে ফকিন্নি নদীর বেড়িবাধ ভেঙ্গে যায়। এতে পার নুরুল্যাবাদ মন্ডলপাড়া ও জেলেপাড়া প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া উপজেলার চকরামপুর এলাকায় আত্রাই নদীর মূল বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে এবং বিষ্ঞপুর ইউনিয়নের চকরামপুর ও কয়লাবাড়ি গ্রাম ও বিপুল পরিমান ফসলের মাঠ প্লাবিত হয়েছে।

মান্দা উপজেলা পার নুরুল্যাবাদ গ্রামের বাসিন্দা আ: রহমান বলেন, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত ১১টায় দিকে বেড়িবাধে ভাঙ্গন দেখা দেয়। এ সময় গ্রামের লোকজন সেখানে বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষা চেণ্টা করেছিলেন। কিন্তু পানির চাপে শেষ পর্যন্ত বাঁধ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। মুহুর্তের মধ্যে গ্রামের ভিতর পানি ঢুকে যায়। বাঁধ ভেঙ্গে বসতবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় রাস্তার উপর খোলা জায়গায় পরিবার নিয়ে অবস্থান নিয়েছেন ওই গ্রমর গৃহবধু শেফালী খাতুন। আজ দুপুরে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন,দেখতে দেখতে ঘরের ভিতর কোমর সমান হয়ে যায়। বাড়ির জিনিসপত্র ঠিকমত নরাতে পারিনি। কোনরকমে ছেলেমেয়েদেও নিয়ে দৌড়ে বাধের উচু জায়গায় অবস্থান নিয়েছি।
উপজেলার নুরুল্যাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম রফিকুল ইসলাম বলেন,নুরুল্যাবাদেও দুটি স্থানে বাধ ভেঙ্গে ১ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হযে ডড়েছেন। ক্ষতিগ্রন্থ মানুষের তালিকা তৈরীর কাজ চলছে। উপজেলা আরো প্রায় ১০/১২টি স্থানে আত্রাই নদীর বাধ ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, উপজেলা দুটি স্থানে বাধ ভেঙ্ঘে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হলেও এখনও বন্যা কবলিত মানুষের ঘর-বাড়ি ছাড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরী হয়নি। তবে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ক্ষতিগ্রস্থ মানষের সহায়তার জন্য সবধরণের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।