ধুনটে পানিতে নিমজ্জিত কৃষকের স্বপ্নের ফসল

নিয়াজ মোর্শেদ নাইম, দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি প্রতিনিধি: বৃষ্টির পানিতে ডুবে আছে বগুড়ার ধুনট উপজেলার কৃষকদের আমন ধান ও আগাম সবজি ক্ষেত। দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে থাকায় আমনের চারা গাছ নষ্ট হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

জমি থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়ন এলাকার কৃষকরা নিজ উদ্যোগে সেচ পাম্প দিয়ে ডুবে থাকা জমির পানি নিষ্কাশন করছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, গত সপ্তাহ জুড়ে টানা ভারী বৃষ্টিতে ধুনট উপজেলার নিম্নাঞ্চল ডুবে যায়। টানা ৫/৬ দিন পানিতে ডুবে থাকায় বেশিরভাগ আমনের চারা গাছ পচে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ইতোমধ্যে কিছু জমিতে আমনের চারা গাছ পচে নষ্ট হয়েছে। এভাবে টানা দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকলে বাকি জমিতে আমনের চারা গাছ পচে নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় চিন্তিত রয়েছে এলাকার কৃষকেরা। উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামের পাশ দিয়ে বাঙালি নদী তীর, নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের শত শত হেক্টর জমির আমন ধান পানিতে ডুবে আছে।

চারদিকে পানি থাকায় পানি নিষ্কাশন করা যাচ্ছে না। এতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য এলাকার কৃষকরা নিজ উদ্যোগে সেচ পাম্পের সাহায্যে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করেছেন। এলাঙ্গী ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামের কৃষক বাদশা মন্ডল জানান, আমন ধান রোপণের পর থেকে যাবতীয় পরিচর্যা শেষ করেছি। কিছুদিন পরে ধানের শীষ বের হত।

এমন সময় টানা বৃষ্টিতে আমাদের ধান ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। কিছু ধান গাছ ইতোমধ্যে পচে গিয়ে নষ্ট হয়েছে। নতুন করে চারা রোপণের মত চারা গাছও নেই। নতুন করে রোপণ করলেও আমন ধান পাওয়া যাবে না। বাকি আমন ধান চারা রক্ষার জন্য সমস্ত এলাকার জমির পানি সেচ পাম্পের সাহায্যে নিষ্কাশন করা হচ্ছে। এলাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম.এ তারেক হেলাল জানান,

প্রতিবছর এই সময় বন্যা হয়। বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য এলাঙ্গী ইউনিয়নের এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আর আমার অর্থায়নে তারাকান্দি, ফকিরপাড়া, নলডাঙ্গায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এবার বাঙালি নদী এবং বাঙালি নারীর শাখা হলহলিয়া নদীর পানি এসব এলাকায় প্রবেশ না করলেও। অতিবৃষ্টিতে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

এতে অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য বিভিন্ন জায়গায় শ্যালো মেশিন এবং তারাকান্দি গ্রামে ৩টি ইলেকট্রিক্যাল সেচ পাম্প বসানো হয়েছে। তিন দিনে কিছুটা পানি কমেলেও এখনো অনেক পানি জমে আছে। তিনি আরো বলেন আমার পক্ষ থেকে সব সময় কৃষকদের সাহায্য সহযোগিতা করা হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিদুল হক জানায়, চলতি বছর উপজেলায় ১৫ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

যার মধ্যে নিম্নাঞ্চলের জমির আমন ধান পানিতে ডুবে আছে। বি-ধান ৫১, বি-ধান ৫২ এই জাতের ধান ৫-৭দিন পর্যন্ত পানিতে ডুবে থাকলেও বেঁচে যাবে। এছারা অন্য জাতেন ধান ৭-১০ দিন পর্যন্ত পানিতে ডুবে ভালো থাকে। যার মধ্যে কিছু বেঁচে যাবে এবং কিছু পচে নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। দ্রুত পানি সরিয়ে দিতে এবং পানি কমে গেলে সতর্কতার সঙ্গে ক্ষেতের ওপর জমে থাকা কচুরিপানাসহ আবর্জনা সরিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এছাড়াও ৬০ হেক্টর আগাম সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বেশিরভাগ আগাম সবজি ক্ষেত অতিবৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে। দ্রুত পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ কম হবে।