ধামরাইয়ে সাময়িক বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যানের পুত্রকে হত্যার চেষ্ঠা, থানায় অভিযোগ

মোঃ আমিনুর রহমান, ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি: ধামরাইয়ের যাদবপুর ইউনিয়নের সাময়িক বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজুর ছেলে মোঃ জাহিদ হাসান দীপুকে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে হত্যার চেষ্টার গত শুক্রবার যাদবপুর ইউনিয়নের গাবতলী নামক এলাকায় তার উপর হামলা করা হয়।

এ বিষয় হামলাকারীদের বিরুধে ধামরাই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন সাময়িক বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু। অভিযোগ সূত্রে জানাযায়,গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকালে যাদবপুর ইউপি সাময়িক বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজুর ছেলে মোঃ জাহিদ হাসান দীপু যাদবপুর ইউনিয়নের গাবতলী নামক স্থানে গাড়ি রাখিয়া পাশের জলিলের চায়ের দোকানে চা খাসছিলেন,

এমন সময় পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে আসামী (১)রেজুয়ান (৪৫) পিতা মৃত নায়েব আলী,(২)আলমগীর (২৮) পিতা মৃত মোসলেম উদ্দিন,(৩)সজীব(২৮) পিতা মৃত আঃ মজিদ,(৪) শিহান(২৫) পিতা মৃত আঃ মজিদ,(৫)সালাম (৩৫) পিতা আব্দুর জব্বার,(৬) আঃ করিম(৩২) পিতা নূর মোহাম্মদ খোকা,(৭)জাহাঙ্গীর (৩৮)পিতা রিয়াজ উদ্দিন ঘুঘুর,(৮)রুবেল হোসেন(২৭) পিতা আবুল হোসেন,(৯)এমরান(২২)পিতা মৃত মিন্টু,(১০)আনোয়ার হোসেন আনু(২৮)পিতা মৃত নয়া মিয়া সর্ব সাং আমছিমুর,থানা-ধামরাই,

জেলা-ঢাকা গন দিপুকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করিতে থাকে তখন দিপু উক্ত গালাগালির প্রতিবাদ করিলে আসামী রেজুয়ান তার বাম হাত দিয়ে দিপুর কলার ধরিয়া তাহার ডান হাতে থাকা ধারালো ছেন দ্বারা হত্যার উদ্দেশ্যে স্বজোরে মাথায় কুপ দেয়, কুপ কপালে লাগিয়া কপাল কেটে যায় এবং আসামী রেজুয়ান চিৎকার করে অন্যদের বলে ওকে মেরে ফেল, তখন আসামী আলমগীর এর হাতে থাকা ধারালো ছেন দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে দিপুর মাথায় কুপ দেয়,কুপ লাগিয়া প্রায় ৪” জায়গা কাটিয়া যায়,

আসামী শিহান ও করিম তাদের হাতে থাকা জি আই পাইপ দ্বারা দিপুকে ডান পায়ে হাটুর নীচে বাইরাইয়া হাড় ভাঙ্গিয়া ফেলে,সালাম তাহার হাতে থাকা ধারালাে ছেন দিয়া ডান পা কাটিয়া ফেলার উদ্দেশ্যে কুপ মারিলে উক্ত কুপ ডান পায়ে কটির উপরে লাগিয়া রক্তাক্ত জখম হয়।সজিব তাহার হাতে থাকা রড় দিয়া হত্যা কবার উদ্দেশ্যে মাথা বরাবর বারি মারিয়া উক্ত বারি দিপুর ঘাড়ে লাগিয়া মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। এক পর্যায় মারাতক রক্তাক্ত জখম অবস্থায় জ্ঞান হাড়িয়ে ফেলে দিপু,তখন আসামী জাহাঙ্গীর, রুবেল, এমরান এবং আনােয়ার হােসেন (আনু) হত্যার উদ্দেশ্যে তাহাদের হাতে থাকা রড ও জি আই পাইপ দিয়া মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে বাইরাইয়া মারাতকভাবে নিলাফুলা জখম করে।

মারামাড়ির এক সময় আসামী জাহাঙ্গীর আলম দিপুর গলায় থাকা ১ ভরি ৪ আনা ওজনের স্বর্নের চেইন যাহার মূল্য অনুমান ৮৫,০০০/- (পচাশি হাজার) টাকা,রুঝেল দিপুর প্যান্টের বাম পকেটে থাকা ৬৭,০০০/- (ষাটষট্টি হাজার) টাকা এবং আনােয়ার হােসেন (আনু) দিপুর কাছে থাকা মােবাইল স্যামসাং যাহার মূল্য ১২,০০০/- (বার হাজার) টাকা,এমরান দিপুর ডান হাতের থাকা ৬ আনি ওজনের স্বর্নের আংটি যাহার মূল্য ২৭,০০০/- (সাতাশ হাজার) টাকা ছিনাইয়া নেয়।

এক পর্যায় দিপুকে মৃত ভাবিয়া ঘটনা স্থান থেকে আসামীগণ চলিয়া যায়। পরে মারাত্মক জখম ও আশংকাজনক অবস্থায় স্থানীয় মােঃ সাইফুল ইসলাম, পিতা-আব্দুল মাদ্রান, জাকির হােসেন, পিতা-রতন মিয়া এবং হৃদয়, পিতা-শাহীন গণ দিপুকে প্রাইভেটকারে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে আসে। উক্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাক্তার কূপালে ৫টি, মাথায় ৯টি সেলাই করে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষ উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করে,ঢাকা যাওয়ার পথে রাস্তায় দিপুর অবস্থার অবনতি হলে,তখন দিপুর বাবা মিজানুর রহমান মিজু তাকে জরুরী ভিত্তিতে সাভার সুপার মেড়িকেল হাসপাতাল এ ভর্তি করে। উক্ত হাসপাতালে দিপুর ডান পায়ে কাটা স্থানে ডাক্তার ১০টা সেলাই করে।

বর্তমানে দিপু সুপার মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এ বিষয়ে ১৪ অক্টোবর বুধবার সাময়িক বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু বলেন, বিবাদী গন অনেক খারাপ লোক তারা যে কোনো সময় আমার এবং আমার ছেলের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে, পরিশেষে তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচারের দাবি জানান প্রশাসনের নিকট। এ বিষয়ে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন,অভিযোগ পেয়েছি,মামলাটি রুজু করা হয়েছে,তদন্ত চলছে তদন্ত শেষে আসামীদের বিরুধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।