ধান-চাল সংগ্রহে ব্যর্থ শরীয়তপুর খাদ্য বিভাগ

খোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরে সরকারের ধান ও চাল সংগ্রহ কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়েছে। সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১১ শতাংশ ধান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে জেলা খাদ্য বিভাগ।

খাদ্য বিভাগের অভিযোগ সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানে সাড়া দিচ্ছে না কৃষকরা। কৃষকরা সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান ও চাল না দিয়ে বেশি দর পেয়ে খোলো বাজারে বিক্রি করছেন। এককথায় খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাগণ সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান-চাল সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে মে মাস থেকে ৩১ আগস্ট পযর্ন্ত বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে জেলায় ২হাজার ৪৯১ মেট্রিকটন ধানের বিপরীতে সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ২৯১ মেট্রিকটন ধান এবং ১ হাজার ১৪৯ মেট্রিকটন চালের বিপরীতে সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ৪২৬ মেট্রিকটন চাল।

এমতাবস্থায় ধান ও চাল সংগ্রহের জন্য ১৫ সেপ্টেম্বর পযর্ন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হয়তো লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবেন বলে ধারনা করছেন জেলা খাদ্য কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোঃ নুরুল হক। জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুরে ৬ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৪৯১ মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করা হয় এবং চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্যকরা হয় ১হাজার ১৪৯ মেট্রিকটন।

এর মধ্যে আজ (১০ সেপ্টেম্বর) পযর্ন্ত ধান সংগ্রহ করা হয়েছে ২৯১ মেট্রিকটন, যা লক্ষ্যমাত্রার ১১ শতাংশ মাত্র এবং চাল সংগ্রহ করা হয়েছে ৪২৬ মেট্রিকটন, যা লক্ষ্যমাত্রার ৩৭ শতাংশ মাত্র। সূত্র মতে, জেলায় গত ১৭ মে ধান কেনার উদ্বোধন করা হয়, যা সংগ্রহের সর্বশেষ সময় বেধে দেয়া হয়েছিল ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত। কৃষকরা জানান, ধান-চালের সরকারি মূল্য ও বাজার মূল্যে তেমন পার্থক্য নাই।

তাছাড়া গুদামে ধান নিয়ে গেলে কৃষকদের পদে পদে হয়রানিসহ বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হয়। তাই বাজারে ধান বিক্রি করতেই কৃষকরা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। আনোয়ার হোসেন সরদার নামে এক কৃষক জানান, দূরের গ্রাম থেকে শরীয়তপুরের বিভিন্ন গুদামে ধান নিয়ে গেলে গাড়ি ভাড়া, সময় ও শ্রম ব্যয় করেও যদি শর্ত পূরণ করা না যায়,

তাহলে ধান নিয়ে আবার বাড়ি ফিরে আসতে হয়। এতে কৃষকরা হয়রানি ও আর্থিক দুই দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শরীয়তপুর জেলা খাদ্য কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোঃ নুরুল হক জানান, বাইরের বাজারের চেয়ে সরকারি দাম কিছুটা কম যাওয়ার কারণে কৃষকরা গুদামে ধান বিক্রি করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তারপরও এখনো ১৫ সেপ্টেম্বর পযর্ন্ত সময় আছে। এর মধ্যে বাজার কিছুটা কমলে হয়তো চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হতে পারে। আমরা সেই অপেক্ষায় আছি। খোরশেদ আলম বাবুল শরীয়য়তপুর