ধসে গেল সংযোগ সড়ক সাতকানিয়ায় নবনির্মিত হাতিয়ারখাল সেতু

রতন দাশ, সাতকানিয়া প্রতিনিধিঃ দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের মির্জারখীল সামারহাট এলাকায় হাতিয়ারখালের উপর নবনির্মিত সেতুর সংযোগ সড়কের মাটি ধসে গেল খালে।

এতে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সোনাকানিয়া ও সদর ইউনিয়নের যাতায়াতরত হাজার হাজার মানুষ।

(২৪ জুলাই) শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে সেতুর পশ্চিম পাশে মির্জারখীল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সড়কের সেতুর সংযোগ ভেঙে মাটি খালে বিলীন হয়ে গেলে স্থানীয় মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে বালু খেকোরা অবৈধভাবে সেতুর উভয় পাশ থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। যার ফলে নবনির্মিত সেতু-সড়ক উদ্বোধন হওয়ার আগেই সংযোগ সড়ক ভেঙে গেল।

স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত বালু উত্তোলন কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই সেতুটি ভেঙে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় লোকজন জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে আওয়ামী লীগ নেতা বশির আহমদ চৌধুরী অবৈধভারে ডলু নদী ও হাতিয়ারখাল থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছে।

অবৈধভারে বালু তোলায় হাতিয়ারকুল ও মির্জারখীল এলাকায় খালের দু’পাশে বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক ভাঙন সৃষ্টি হয়।

এতে অনেকের ঘরবাড়ি নদী ও খালে বিলীন হয়ে যায়। বালু তোলা বন্ধ করতে ও সেতু রক্ষায় এলাকাবাসী একাধিক বার মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।

উল্টো প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বালু খেকোরা। শুরুবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাতিয়ার খালের উপর নবনির্মিত সেতুর পশ্চিম পাশে সংযোগ সড়কের মাটি ধসে গেছে।

ধসে যাওয়া স্থানের উভয় পাশে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া রয়েছে।

দু’পাশ থেকে নারী পুরুষ ও শিশুরা ভেঙে যাওয়া স্থান দেখতে আসছেন। সোনাকানিয়া ১নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আহমদ কবির ভেট্টা বলেন, কিছু লোক প্রভাব কাটিয়ে ডলু ও হাতিয়ার খাল থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভারে বালু উত্তোলন করছে দীর্ঘদিন ধরে।

সেতুর উভয় পাশ থেকে বালু তোলায় আজ সংযোগ সড়ক ধসে গেছে। খাল থেকে স্থায়ীভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ না করলে বর্ষা মৌসুমে হয়তো সেতুটিও ধসে যেতে পারে।

সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের প্রচার সম্পাদক সেলিম চৌধুরী জানান, প্রভাব কাটিয়ে কিছু লোক খালের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক বছর ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। ড্রেজার দিয়ে বালু তোলায় ডলু ও হাতিয়ারখালের তীর ভেঙে অনেক মানুষের বাড়িঘর বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

এতে প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে হয়রানি মূলক মামলাও দিয়েছেন তারা। স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যার ফলে আজ সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙে মাটি খালে বিলীন হয়ে গেছে।

যারা অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও হুমকিরমুখে নবনির্মিত সেতুটি রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক নুরুল আবছার চৌধুরী বলেন, আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এলাকার মানুষের সুবিধার্তে অনেক কষ্ট করে সরকারের বিভিন্ন দফতরে দৌঁড়ে হাতিয়ার খালের উপর সেতু ও মির্জারখীল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক নির্মাণের প্রকল্পটি পেয়েছিলাম।

প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রিজ ও সড়কটি নির্মিত হয়েছে। এখনো উদ্বোধন হয়নি। ড্রেজার দিয়ে খাল থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় ও সড়ক নির্মাণে ঠিকাদার অনিয়ম করায় আজ সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে গেছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে প্রশাসনকে জানানোর পরও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগ নেতা বশির আহমদ চৌধুরী বলেন, ইজারা নিয়ে ব্রিজের ১ হাজার ফুট নিচে থেকে আমি বালু তোলেছি। ব্রিজের পাশ থেকে বালু উত্তোলনে আমার নাম কেন আসবে?

সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী পারভেজ সরওয়ার বলেন, হাতিয়ারখালের সেতুর সংযোগ সড়কের কিছু অংশ ধসে যাওয়ার খবর পেয়েছি। বিষয়টি উর্ধ্বন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শনিবার সকালে সড়কটি পরিদর্শন করে মেরামতের ব্যবস্থা করা