দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটে উচ্ছেদ অভিযান

দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে রাজধানির ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট ২ এ অবস্থিত অবৈধ দোকান উচ্ছেদ অভিযান। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট দুই-এ বিভিন্ন সময় নকশার বাইরে তোলা ৯১১টি দোকান অস্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেয় করপোরেশন। ২০১২ সালের মার্চ থেকে ২০২০ এর মার্চ পর্যন্ত ভাড়া বাবদ প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা আদায় করে দক্ষিণ সিটি।

বৈধ ভাড়ার বাইরেও নানা সময় বিভিন্ন যুক্তিতে বিশাল অংকের টাকা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেয় মালিক সমিতি। অভিযোগ আছে সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়রের দিকেও।

গতকাল মঙ্গলবার থেকে ফুলবাড়িয়া মার্কেটে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে ডিএসসিসি। প্রায় চার ঘণ্টার অভিযানে ২৫০টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। বিক্ষুব্ধ দোকানিরা প্রথমে অভিযান চালাতে দেননি। পুলিশ ও করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর তাঁরা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। পরে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ।

ডিএসসিসির কর্মকর্তারা বলছেন, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২-এ নকশার মধ্যে মাত্র ৫৩১টি দোকান রয়েছে। দুই যুগেরও বেশি সময় আগ থেকে ওই বিপণিবিতানের গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা, শৌচাগারের জায়গা, ফুটপাত থেকে শুরু করে যত্রতত্র দোকানপাট নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৬ সালে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় নির্মিত দোকানগুলোকে অস্থায়ী বরাদ্দ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে করপোরেশন। সবশেষ ২০১২ সালে ফুটপাতসহ বিভিন্ন জায়গায় গড়ে ওঠা নকশাবহির্ভূত দোকানগুলোকে অস্থায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এই বিপণিবিতানে নকশাবহির্ভূত ৯১১টি দোকান পাওয়া গেছে। এ জন্য পূর্বঘোষণা অনুযায়ী এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

ডিএসসিসির রাজস্ব বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, অস্থায়ী দোকান বরাদ্দের ক্ষেত্রে অন্যতম শর্ত হলো করপোরেশন চাইলে যেকোনো সময় তা উচ্ছেদ করতে পারবে। এ জন্য নিয়ম মেনেই তাঁরা অভিযান চালিয়েছেন। কিন্তু দোকানিদের দাবি, তাঁরা অস্থায়ী বরাদ্দ পাওয়ার পর নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধের পাশাপাশি মার্কেট কমিটির নেতাদের লাখ লাখ টাকা দিয়েছেন। কমিটি ও আগের মেয়রের সময় কর্মকর্তারা তাঁদের আশ্বাস দিয়েছিলেন, অতিরিক্ত টাকা দিলে এসব দোকান যাতে ভাঙা না পড়ে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।