দৌলতপুরে মশাউড়া গোবর গাড়া কবরস্থানে তালা; জনমনে ক্ষোভ

আছানুল হক, কুষ্টিয়া দৌলতপুর প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নে অবস্থিত মশাউড়া গোবরগাড়া কবরস্থানের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে একটি মহল এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে এলাকাতে।রাতের আধারে কবরস্থানের তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে গেলে এলাকাবাসী জানান, হামিদুল, জানমাহাম্মুদ মাস্টার এ নাসিরের নেত্রীতে তালা লাগানো হয়েছে তারা শুক্রবার রাতে কোন এক সময় তালা ঝুলিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী জানান,এই কবরস্থান টি ৪১ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত। বর্তমান সভাপতি এম জি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওহিদুল হক এর পিতা আজাহার আলী নিজের জমি দান করে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি মারা যাওয়ার পরে ওহিদুল হক সভাপতি হয়েছেন। ওহিদুল হক সভাপতি হওয়ার পরে যে কবরস্থানের পাশ দিয়ে দিনের বেলাতে মানুষ যেতে ভয় করতো সেই কবর স্থানকে একটি মডেল কবরস্থানে রুপান্ত করেছে। এবং সে তার ভাই একজন এল জি ডির কর্মকর্তা হওয়াতে তার মাধ্যমে কবরস্থানের পরিবেশ উন্নয়নের জন্য ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ এনে গেট ও রাস্তা তৈরি করেন।
এছাড়াও এলাকাবাসী জানান , হঠাৎ করে ঈদের দিন ঈদের জামাত শেষে একটি সাদা কাগজে আমাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয় যেটা আমাদেরকে বলে নেওয়া হয় নাই, যে এটা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ আকারে দেওয়া হবে। আমাদের বলে নিলে আমরা স্বাক্ষর করতাম না কেন সভাপতির বিরুদ্ধে স্বাক্ষর করতে যাব তিনি আসার পরে তো কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হয় নাই যত উন্নয়ন সকল অবদান বর্তমান সভাপতি এবং তার পরিবারের। আবার শুনছি হঠাৎ করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে কবরস্থান একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এখানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া কি ঠিক হয়েছে । কেন কি কারনে একটি মহল তালা ঝুলিয়ে দিলো তদন্ত করে বিচার দাবি করছি। এ বিষয়ে হামিদুল ইসলাম ও নাসির উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে প্রথমে তালা ঝুলানোর বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেন।
পরে আবার আধা ঘন্টা পরে ফোন ব্যাক করে বলেন এক দেড় শত গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে মিটিং করে তালা লাগিয়েছে। সেখানে প্রশ্ন থেকে যায় ধর্মীয় এই ধরনের প্রতিষ্ঠান কি তালা লাগানো কি যৌক্তিক বিষয়। এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নাই হামিদুল ইসলাম ও নাসির উদ্দিন। এ বিষয়ে সভাপতি ওহিদুল হক এর কাছে জানতে চাইলে, তিনি জানান আমার কাছে নয় আপনারা এলাকাবাসীর কাছে জানলে বুঝতে পারবেন কার হাত দিয়েই কবর স্থানের এই উন্নয়ন।২০০৮ সালের পর থেকে গোরস্থান কমিটির ক্যাশিয়ার বাদল বিশ্বাস সাহেবের কাছে জানলে বুঝতে পারবেন অধ্যবধি দশটা টাকার কোন হিসাবে গরমিল হয় নাই।
তবে ব্যাংক একাউন্টে ১০ লক্ষ টাকার উপরে আছে এবং এছাড়াও অ্যাকাউন্ট বাদে ক্যাশিয়ার এর কাছে ৩ লক্ষের উপরে টাকা আছে যে টাকা দিয়ে ক্যাশিয়ার তামাকের ব্যবসা করেছে আমি বাধা দেওয়ার কারনে আমার বিরুদ্ধে একটি মহল কে নিয়ে নানারকম ষড়যন্ত্র শুরু করে। তারই অংশ হিসেবে তারা আজ এই অমানবিক কাজটি করেছে যে কবরস্থানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। আমি বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করছি।
এ বিষয়ে ক্যাশিয়ার বাদল বিশ্বাস এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বর্তমান সভাপতি ওহিদুল হক আমার কাছে কোনদিন অনৈতিক কোন প্রস্তাব রাখেনি আমি ক্যাশিয়ার হওয়ার পর হিসাবে কোন গরমিল নাই তার সাথে। প্রশ্ন তাহলে কেন এই সমস্যাগুলো ঘটছে তিনি জানান অর্থ কমিটির মাধ্যমে অর্থ ব্যয় হচ্ছে না তাই। পরে কবরস্থানের টাকা দিয়ে ব্যবসার করার কথা জানার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান আমার কাছে তেমন কোন টাকা নাই।