দেশের সব হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার নির্দেশ

বাংলাদেশের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে নভেল করোনাভাইরাসজনিত কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। একই হাসপাতালে ‘কোভিড-১৯’ ও ‘নন-কোভিড’ রোগীদের আলাদাভাবে চিকিৎসা দিতে হবে।

ঈদুল ফিতরের আগের দিন গত ২৪ মে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি দেশের সব সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেইসঙ্গে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, মেডিকেল কলেজ ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের কাছেও সেটি পাঠানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা এ খবর জানিয়েছে।

বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর থেকে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় নির্দিষ্ট কয়েকটি হাসপাতাল নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশের সরকার। কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত শয্যার অভাব, চিকিৎসাসেবার অপ্রতুলতার নানা অভিযোগ ওঠে।

নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হওয়া নিশ্চিত না হলেও জ্বর, সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত সাধারণ রোগীরাও হাসপাতালে ভর্তি হতে না পারা বা চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেন। এমন প্রেক্ষাপটে সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে একই সঙ্গে কোভিড-১৯ ও নন-কোভিড রোগীদের চিকিৎসাসেবা চালু করার পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন দেশের কোভিড-১৯ চিকিৎসা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে একই হাসপাতালে কোভিড-১৯ ও নন-কোভিড রোগীদের ভিন্ন ভিন্ন অংশে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান নিশ্চিত করার জন্য পরামর্শ প্রদান করেছেন।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ‘এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রস্তাব অনুযায়ী, কোভিড ও নন-কোভিড রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ৫০ শয্যা ও তার বেশি শয্যাবিশিষ্ট সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড ও নন-কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য পৃথক ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ প্রদান করা হলো।’

বাংলাদেশে বর্তমানে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৬ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিনই সহস্রাধিক রোগী সে তালিকায় যোগ হচ্ছে। এ রোগীদের বেশিরভাগই অবশ্য বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মৃত্যু হয়েছে ৫২২ জনের।

বাংলাদেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সন্দেহভাজন কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখার বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ গত মাসে নির্দেশনা জারি করলেও তার কোনো বাস্তবায়ন হয়নি; বরং প্রতিদিন অসংখ্য রোগীকে নিয়মিত চিকিৎসা পেতেও নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।

এমন প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের লাইসেন্স বাতিল করাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।