দেশের একমাত্র জলা বন বা সোয়াম্প ফরেস্ট সিলেটের রাতারগুল

রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট

দেশের একমাত্র স্বীকৃত সোয়াম্প ফরেষ্ট বা জলার বন রাতারগুল সিলেটের গোয়াইনঘাট এলাকায় অবস্থিত। উত্তরে গোয়াইন নদী, দক্ষিণে বিশাল হাওর। মাঝখানে ‘জলার বন’ রাতারগুল যা বাংলার অ্যামাজন নামে পরিচিত। সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নে রাতারগুলের অবস্থান। সিলেট নগরী থেকে দেশের একমাত্র স্বীকৃত রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্টের (Ratargul Swamp Forest) দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার। অনিন্দ্য সুন্দর বিশাল এ বনের গাছ-গাছালির বেশিরভাগ অংশই বছরে চার থেকে সাত মাস থাকে পানির নিচে।

রাতারগুলের বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকায় প্রবেশ করতে প্রাপ্তবয়স্কদের ৫০ টাকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক (১২ বছরের নিচে) ও পরিচয়পত্রধারী শিক্ষার্থীদের ২৫ টাকা করে ফি দিতে হবে। আর বিদেশি নাগরিকদের জন্য প্রবেশ ফি ধরা হয়েছে ৫০০ টাকা।

এ ছাড়া একদিন একটি ক্যামেরা দিয়ে রাতারগুলের বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এলাকায় শুটিং করতে চাইলে ‘ফিল্মিং ফি’ দিতে হবে ১০ হাজার টাকা।

যেভাবে যাবেন:

যদি ঢাকা থেকে আসেন তাহলে বাসে হূমায়ুন চ্বত্তর নেমে সিএনজি ভাড়া করে আম্বরখানা চলে যাবে মাত্র ২০ টাকা লোকাল ভাড়া।
তারপর আম্বরখানা থেকে রিজার্ভ সিএনজি রাতারগুল যাবে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা সময় ৫০ মিনিটস থেকে ১ ঘন্টা লাগবে।
একটা কথা বলে রাখা ভাল, সেখান থেকে ফেরত আসার সময় গাড়ি নাও পেতে পারেন তাই যে গাড়িতে যাবেন সেটি রেখে দিলে ভাল হয়।  আর নৌকা ভাড়া ফিক্সড করে দিছে ৭৫০/-। দড়াদড়ি করে দেখতে পারেন কিছু কম নিতেও পারে। যখন ভিতরে প্রবেশ করবেন, কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণ, বৃদ্ধ গাছ গুলো আপনাকে এক অসংগায়িত অনুভুতি দিবে। এক কথায় তুলনাহীন।

 

সতর্কতা :
  • শুনেছি গাছে সাপের ও দেখা মিলে।যদিও আমার চোখে এমন কিছু পড়েনি।
  • নৌকার মাঝিকে না জিজ্ঞেস করে কিছু করতে যাবেন না। যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
  • ছাতা নিবেন অবশ্যই। আমি ঝুম বৃষ্টিতে ভিজে একদম বাজে অবস্থায় পরেছিলাম।
  • যারা সাতার পারেন না, তারা লাইফ জ্যাকেট ভাড়া করে নিয়ে যাতে পারেন। নৌকা খুব ই ছোট তাই চলন্ত অবস্থায় নড়াচড়া করবেন না।
  • সবশেষে পরিবেশ এর ক্ষতিকর কিছু করবেন না।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রাতারগুল, বাগবাড়ি ও পূর্ব মহেশখেড় এলাকার ৫০৪ দশমিক ৫০ একর নিয়ে মিঠাপানির এই জলাবন। প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা এই বনে হিজল, করচসহ ৭৩ প্রজাতির উদ্ভিদ, ২৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ২০ প্রজাতির সরীসৃপ, ১৭৫ প্রজাতির পাখি ও ৯ প্রজাতির উভচর প্রাণী রয়েছে।