দেশব্যাপী বিভিন্ন বাড়ার তাড়ায় সাধারণ মানুষের জনজীবন নাজেহাল

এনাম রহমান, সিলেট প্রতিনিধি:  করোনা ভাইরাসে আমাদের জীবনের স্বাভাবিকতা কেড়ে নিয়েছে সাধারণ পরিবারগুলাে আজ বড় অসহায়। শ্রমশক্তি জরিপ ২০১৭ অনুযায়ী, শহরাঞ্চলে প্রায় ৪৪ শতাংশ আবাসিক বাড়ি ভাড়া বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরাের (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, বাড়ি ভাড়া বাবদ মােট মাসিক ব্যয়ের ১৭.২৫ শতাংশ পর্যন্ত খরচ হয়। অর্থাৎ একটি পরিবারের মােট মাসিক ব্যয়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশই বাড়ি ভাড়ার বাবদ শেষ হয়ে যায়।

কিন্তু এতে কোন অভিযােগ কারােরই ছিলাে না ,কারণ জীবনধারা অব্যহত রাখতে যা যা প্রয়ােজন তা জোগানাের জন্যই মানুষ নিজেকে কর্মজীবনে জড়ায় আর এটাই স্বাভাবিক। এদিকে করোনার জন্য লকডাউনের সময় কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষের অবস্থা সবচেয়ে বেশি শোচনীয় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যারা দিন আনে দিন খায়, যেমন- রিকশা চালক, পরিবহন শ্রমিক, দিনমজুর, হকার, হােটেল, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন দোকান, মার্কেটের কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ সময় ভাড়া নিয়ে তাড়া করে দুর্ভিসহ করে তুলছে তাদের জীবন বাড়ীর মালিক, গাড়ীর মালিক, দোকান মালিক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে উদার মনের মালিক পাওয়া গেছে অনেক। তবে তা নিতান্তই স্বল্প। এই মহামারীর সময় আর্থিকভাবে এতটাই অসচ্ছল হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষগুলাে যা বলা বাহুল্য। নিম্নবিত্ত/মধ্যবিত্ত সাধারণ পরিবারগুলাে তাদের সঞ্চয়গুলােও ইতােমধ্যে তুলে প্রায় নিঃস্ব এখন। যদি ও ব্যবসায়ীরা বা চাকুরীজীবী রা তাদের কর্মস্থল এ যােগদান করেছেন সাধারণ ছুটি প্রত্যাহার হওয়ার পর। কিন্তু ক্ষুদ্র ও মাঝারী পরিসরে যারা ব্যবসা পরিচালনা করেন তাদের প্রতিষ্ঠান বলতে গেলে এখন ক্রেতাশূন্য বললেই চলে, যা আয় হয় তা হয়ত একেবারেই নূন্যতম। আর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনেকেরই তাে বেতন আটকে আছে!

আবার কেউ কেউ চাকরি হতে ছাঁটাইয়ের তালিকায় পড়েছেন, অনেকের চাকুরি চলে গেছে কারন একটাই ভয়ানক করােনাভাইরাস। কিন্তু ঐ চাকুরীচ্যুত মানুষগুলাের পরিনতির কথা কে বা জানে বলুন? তাদের নিরব কান্না কেবল তাদের পরিবারগুলােই উপলব্ধি করতে পারছে। এই শ্রেণির মানুষগুলাের দিকে এই সময় কর্তৃপক্ষের সুনজর পড়া অতি জরুরী। কেননা বাসা ভাড়া/ দোকান ভাড়া ইত্যাদি দিতেই হিমশিম খাচ্ছে তারা। এদিকে পরিবহন খাতেও বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। কারন, বাসে সিটের অর্ধেকের বেশি যাত্রী নেয়া যাবে না স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস চলাচল করানাে হচ্ছে। দাঁড়িয়ে যাত্রী নেয়া যাবে না, ভাড়ার চার্ট দেখিয়ে ভাড়া নিতে হবে। যাত্রীদের মাঝে একটি করে সিট খালি রাখতে হবে ইত্যাদি শর্তাবলী দেয়া হয়েছে।

করোনা ভাইরাস মহামারীতে কম যাত্রী তুলতে হবে বলে মালিকদের ক্ষতি পোষাতে ভাড়া ৬০ % বৃদ্ধি করলো সরকার। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি কিংবা যাত্রী বহনের বিষয়ে অদৌ কি মানা হচ্ছে সরকারের নির্দেশনা? তবে না মেনে থাকলে ও ভাড়া দ্বিগুণ। এ বিষয়ে তারা মোটেই কার্পণ্যতা করছেন না। তবে এই করোনা সময় আমরা দেখেছি মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্তও। মানবতার জয় অনেকটাই আমরা দেখতে পেয়েছি পুর্ণভূমি সিলেটে। বেশ কিছু সংঠন ছাড়াও জেলা পুলিশ, অসহায় নিম্নবিত্ত ও মধ্যেবিত্ত পরিবারসহ পরিবারগুলো কে মানবতার হাত বাড়িয়েছেন ও সাহস দিয়েছেন।

এখনও ক্রান্তিকাল চলছে সকল বাড়ীর মালিক এবং দোকানে মালিক, গাড়ির মালিকদের সিলেট বিভিন্ন পেশার মানুষে অনুরোধ করেছেন তাদের প্রতি একটু মানবিক হওয়ার জন্য, পুরোটা না পারেন অর্ধেক ভাড়া মওকুফ করে পরিবারগুলোর প্রতি সদয় হন। যদিও এ ব্যাপারে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি তারপরও এই মহামারী কালে আপনাদের এই সহযোগিতা সাধারণ পরিবারগুলো একটু হলেও স্বত্বি পাবে।