দু’চারটা সাংবাদিক মাইরা পাখির মতো উড়াই দিছি টঙ্গী থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রচার সম্পাদক ইমরান

মোঃ আল-আমিন, টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ তোমার হাত-পা ভেঙে রাখি নাই এই শুকরিয়া করো মিয়া। আমাকে কি ভালো মনে হয় মিয়া? তোমার হাত-পা ভেঙে লাইফ শেষ করি নাই, সেই শুকরিয়া করো। তোমার সাহস কত আমার লাইনে আইছ? দুই রান ধরে ফাইরা ফেলাবো মিয়া।তুই চিনস আমি কেডা? তোর সঙ্গে ভালো মতো কথা বলছি, তুই আমারে ফালতু মনে করস? তোরে টান দিয়ে ছিড়ে ফেলাবো। তোর মতো দুই-চারটা সাংবাদিক মাইরা পাখির মতো উড়াই দিছি। টঙ্গীর এক সাংবাদিককে মাইরা এলাকা ছাড়া করেছি।’

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকাটাইমস২৪ফোর ডটকম ও সাপ্তাহিক এই সময়ের টঙ্গী প্রতিনিধি ইফতেখার হোসেন রায়হানকে মোবাইলে এভাবে হুমকি দেন ইমরান তালুকদার বছির। তিনি নিজেকে টঙ্গী থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রচার সম্পাদক বলে দাবি করেন। এ ঘটনায় টঙ্গী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন সাংবাদিক রায়হান, জিডি নম্বর-১১৯, ৪-৪-২০২০।

জিডিতে রায়হান লিখেছেন, তিনি টঙ্গীর গাজী বাজার এলাকায় আইএসপি (ইন্টারনেট) ব্যবসার একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন। গত (১ এপ্রিল) বুধবার স্থানীয় উদয়ন হাউজিংয়ের একজন গ্রাহক ইন্টারনেট সংযোগ চাইলে তার অফিস থেকে সংযোগ দেওয়া হয়। একই এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবসায়ী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ইমরান তালুকদার বছির ও তার লোকজন শনিবার ওই সংযোগটি এবং বক্সের মেশিনপত্র এবং ফাইবার বেআইনিভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। খবর পেয়ে বিষয়টি জানতে বছিরের মুঠোফোনে ফোন দিলে বছির ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ সাংবাদিক রায়হানকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী ওই সাংবাদিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এদিকে সাংবাদিক ইফতেখার হোসেন রায়হানকে হুমকি দেওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকরা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা এ ঘটনা তদন্ত করে হুমকিদাতার বিচার দাবি করেছেন।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সাংবাদিক রায়হানকে হুমকির ঘটনায় থানায় জিডি হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বছিরের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘হুমকি দিয়েছি। তাতে কী হয়েছে? ওর মতো সাংবাদিক মারলে কে আমার কী করবো? ও (রায়হান) আমার অনুমতি ছাড়া এই এলাকায় কেন ইন্টারনেট ব্যবসা শুরু করছে।’