দুই হাত নেই জিয়ার তাতে কি?

প্রতিবন্ধি হয়ে জন্ম গ্রহণ না করেও প্রতিবন্ধি জীবনযাপন করতে হচ্ছে ২৫ বছর বয়সী জিয়ার। মাগুরা জেলার শালিখা থানার মনোখালী গ্রামে কোন এক সিনিদ্ধ সকালে জন্ম হয়েছিলো জিয়ার। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে জিয়া দ্বিতীয়। সংসারে অভাব অনটনের কারনে বাধ্য হয়ে পড়াশুনা ছাড়তে হয়েছিলো জিয়ার।

জিয়ার বয়সী ছেলেরা যখন স্কুল ড্রেস পড়ে স্কুলে যেত জিয়া তখন রাজমিস্ত্রির কাজে যেত। চার বছর রাজমিস্ত্রির হেলপারের কাজ করার পর জিয়া মিস্ত্রি হয়। খুব আমোদ প্রমোদেই কাটছিল জীবন। হঠাৎ একদিন জিয়ার সেই সুখের জীবনে কাল বৈশাখী ঝড় আসে। ছিন্ন বিছিন্ন করে দেয় তার জীবন । পাশের গ্রামের একটা বাজারের মেইন রাস্তার পাশেই একটা বিল্ডিংয়ের ছাদে রড়ের কাজ করছিলো।

হঠাৎ একটা রড গিয়ে পড়ে কারেন্টের তারের উপর। সেখান থেকে নড়াইল সদর হাসাতাল,যশোর সদর হাসপাতাল ও পড়ে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল। তিন মাস পর জিয়া বাড়ি ফেরে সুস্থ হয়ে। জিয়ার দুই হাতের এক হাতও নাই তখন। এরপর শুরু হয় জিয়ার নানান অবহেলিত জীবন। কয়েকদিন মানুষের সহানুভূতির পরই শুরু হয়ে যায় তাকে নিয়ে হাসি তামাশার মহড়া। খুব অসহায় জীবন কাটছিলো জিয়ার। প্রতিটি কাজের জন্য অন্যের উপর নির্ভর করতে হতো। পরে দীর্ঘ চার বছর ধরে নিজের প্রচেষ্ঠা ও আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে জিয়া তার নিত্য নৈমিত্রিক কাজগুলো আয়ত্ব করে নেয়।

এরপর বাড়ির সামনে বেঁচে থাকার তাগিদে একটা মুদির দোকান দেয়। জিয়া এখন তার দোকান নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচেছন । দুই হাত না থাকলেও মোটামুটি ভাবে খরিদ্দারদের প্রয়োজন মতো সকল জিনিস সরবরাহ করছেন। হাত না থাকলেও যে ই”ছা শক্তি দিয়ে অনেক কিছু করা সম্ভব সেটার এক বাস্তব প্রমাণ স্থাপন করেছেন এই জিয়া।