দীপিকারা পাশে দাড়ালেন দিল্লির জেএনইউতে আক্রান্ত ঐশীদের

ভারতের রাজধানী দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেএনইউ) ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষসহ ছাত্র ছাত্রীদের ওপরে নির্যাতন চালিয়েছে একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত। এর নিন্দায় সরব ভারতের শিল্পীসমাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের চার দেয়ালের মধ্যে এই বিভীষিকা উদ্রেককারী ঘটনা তাড়া করছে বলিউডের অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনকে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে যেভাবে আন্দোলন জোরদার হয়েছে, তাতে তিনি গর্বিত বলে মন্তব্য করেছেন এই অভিনেত্রী।

 

সকালে শুধু প্রতিবাদে টুইটারে মন্তব্য দিয়ে সরব ছিলেন দীপিকা। সন্ধ্যায় মৌখিক প্রতিবাদে আটকে থাকলেন না বলিউড ডিভা দীপিকা পাড়ুকোন। মঙ্গলবার শীতের সন্ধ্যায় সশরীরে হাজির হলেন জেএনইউ ক্যাম্পাসে। সেখানে ঐশী ঘোষসহ রোববারের ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখাও করলেন দীপিকা। সেখানে হাজির জেএনইউর প্রাক্তন শিক্ষার্থী কানহাইয়া কুমারও। বলিউডের প্রথম সারির অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীই জেএনইউ–কাণ্ড নিয়ে সরব হয়েছেন, কিন্তু একেবারে জেএনইউতে পৌঁছে গিয়ে দীপিকা চমকেই দিলেন। সেই সঙ্গে বলিউড যে প্রয়োজনে কতটা মুখর হতে পারে, তাও যেন বুঝিয়ে দিলেন এ অভিনেত্রী। ভারতীয় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা যে নিজেদের মতো তুলে ধরতে ভয় পাইনি, সে জন্য আমি গর্বিত। কী হতে পারে, এটা না ভেবে যে আমরা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরছি, এটা সত্যিই বড় কথা।

 

প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতে যে মিছিল হয়, তাতে দেখা গিয়েছে অনুরাগ কাশ্যপ, অনুরাগ বসু, তাপসী পান্নু, দিয়া মির্জাসহ অন্য তারকাদের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়েছে বলিউড ও টালিউড।’

 

গতকাল সোমবার অভিনেত্রী সোনম কাপুর টুইটারে লিখেছিলেন, ‘এতই যখন সাহস তখন মুখ দেখালে না কেন? নিরীহ ছাত্রদের ওপর হামলা করার সময় অন্তত মুখটা দেখাও। আমি স্তম্ভিত।’

রাজকুমার রাও তাঁর টুইটারে লেখেন, ‘যা হয়েছে তা লজ্জাজনক, হৃদয়বিদারক এবং ভয়ংকর। যারা এই কাজ করেছে, তাদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

 

তাপসী পান্নু লেখেন, ‘কী হচ্ছে এসব! দুঃখজনক।’

 

দিয়া মির্জা লেখেন, ‘আর কত দিন চলবে এসব? কত দিন অন্ধ হয়ে বসে থাকবেন? রাজনীতি এবং ধর্মের নামে আর কত দিন এই হানাহানি চলবে? এনাফ ইজ এনাফ।’

রীতেশ দেশমুখ লেখাতেও একই সুর। তিনি লেখেন, ‘মুখ কেন ঢাকতে হয়? কারণ তারা জানে, যা করছে তা ভুল, আইনবিরুদ্ধ এবং অপরাধযোগ্য। এই অন্যায় মেনে নেওয়া যায় না।’

 

এর আগে সংশোধনী নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছিলেন স্বরা ভাস্কর, অনুরাগ কাশ্যপ এবং শাবানা আজমিসহ বেশ কিছু অভিনেতা। জেএনইউ–কাণ্ডে ছাত্রদের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় আবারও গর্জে উঠলেন তাঁরা। বলিউডের পাশাপাশি প্রতিবাদ জানিয়েছেন কলকাতার তারকারাও। মিমি, সৃজিত, আবির, পরমব্রতরা ছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনায় সমালোচনা করেছেন।

 

নিজের টুইটার থেকে অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় লেখেন, ‘হীরক রাজার সেনারা একের পর এক পাঠশালা আক্রমণ করে যাবে, মগজধোলাই মেশিন চলছে, চলবে … উদয়ন মাস্টার, কোথায় আপনি? আর লুকিয়ে থাকবেন না! আপনাকে, গুপি, আর বাঘাকে খুব দরকার!’

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার একটি লাইন উল্লেখ করে আবির চট্রপাধ্যায় লেখেন, ‘এ দেশের বুকে আঠেরো আসুক নেমে।’