দিনের পর দিন লোহার খাঁচায় দুই ছেলেকে বন্দি রেখে নির্যাতন

দুই ছেলেকে লোহার খাঁচায় বন্দি রেখে নির্যাতন

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাবা ও সৎ মায়ের বিরুদ্ধে দুই ভাইকে ঘরের ভেতর লোহার খাঁচায় এক বছর ধরে বন্দি করে রেখে ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। দিনের পর দিন খাবার না দিয়ে মারধর করায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে হেমায়েত হোসেন সুমন (৩৫) নামে এক ছেলে মারা যান। এ সময় আরেক ছেলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে পুলিশে খবর দেয়। এরপর পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে অপর ছেলে সাফায়েত হোসেন রাজুকে তালাবদ্ধ ঘর থেকে উদ্ধার করে। তবে এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করেনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ফতুল্লার দক্ষিণ রসুলপুর এলাকায় হাবিবুল্লাহ ক্যাশিয়ারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হেমায়েত হোসেন সুমন হাবিবুল্লাহর বড় ছেলে এবং উদ্ধারকৃত সাফায়েত হোসেন রাজু দ্বিতীয় ছেলে।

রাজু  জানান, কয়েকদিন আগে রাতে সুমনকে অনেক মারধর করে। এরপর সে সারারাত কান্নাকাটি করেছে। তখন আমি অনেক চিৎকার করে আশপাশের লোকজনদের ডাকাডাকি করেছি কিন্তু আমার বাবা ও সৎ মায়ের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। আমি ও আমার ভাই পাগল না। আমার বাবা যে সম্পত্তি জমি তার দাবি করেন। সে জমির অর্ধেক মালিক আমার মা মোহসেনা বেগম। এই জমি বাবা ও সৎ মা আত্মসাৎ করার জন্য তাদের দুই ভাইকে পাগল আখ্যা দিয়ে ঘরে আটক রেখে নির্যাতন করতেন। তার বড় ভাই সুমন নির্যাতনেই মারা গেছেন বলে রাজুর দাবি।ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলুল হক জানান, নিহতের শরীরের পিছনে পচন ধরেছে। আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহরের জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।