দিনাজপুরে লাকি হত্যার মেলেনি কোন কুলকিনারা

দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি (নয়ন)ঃ দিনাজপুরের বীরগঞ্জে লাকি আক্তার (২৪) হত্যা কান্ড নিয়ে ধুম্রজাল সৃর্ষ্টি হয়েছে। কি ভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা ৭ দিনেও পুলিশ, ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক বা বাদী কেউ স্পষ্ট করে বলতে পারছেননা।

স্বামীর পরিবার থেকে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে ও বাবার পরিবারের পক্ষ থেকে নির্যাতনের পর বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করা হলেও ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক বলছে বিষের কোন আলামত পাওয়া যায়নি।অপরদিকে ঘটনার দিন থেকে স্বামী, শশুড়, শাশুড়ী ও ননদ পলাতক রয়েছে। খোজ পাওয়া যাচ্ছেনা নিহত লাকি আক্তারের তিন বছরের শিশু কন্যা ফারিয়া আক্তারের।

জানা যায়, প্রায় সময় যৌতুকের জন্য লাকি আক্তারকে নির্যাতন করত। এরই মধ্যে তাদের একটি প্রতিবন্ধি কন্যা ন্তান জন্ম নেয়।এতে করে বেড়ে যায় নির্যাতন। এক পর্যায নির্যাতন সইতে না পেরে লাকি আক্তার তার সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ীতে চলে আসে। এবং ইউনিয়ন পরিষদে শালীশে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয় । সে সময় শিশু ফারিয়া আক্তারকে তার পিতা অমর ফারুক নিয়ে যায়। পরে স্বামীর কাকুৃতি মিনুতির পর পুনরায় বিয়ে করে সেই সন্তানের মায়ায় লাকি আক্তার স্বামীর সংসারে ফিরে যায়।

এরপর বিচ্ছেদের সময় দেয়া টাকা বাবার বাড়ী থেকে নিয়ে আসার জন্য আবারো শুরু নির্যাতন। বাধ্য হয়ে লাকি আক্তারের বাবা মা দুই দফায় ৮০ হাজার টাকা অমর ফারুকের হাতে তুলে দেন।এখানেই শেষ নয় স্বামী অমর ফারুক ও তার পরিবারের সদস্যরা আরো ৫ লক্ষ টাকা বাবার বাড়ী থেকে নিয়ে আসার জন্য নির্যাতন শুরু করেন । এরপরও, প্রায় সময় খাওয়া দাওয়া বন্দ করে দিয়ে বাঁশের সঙ্গে হাত পা বেঁধে নির্যাতন করা হত। ঘটনার দিন ১২ জানুয়ারী তাকে হাত পা বেধে নির্যাতন করা হয়। এক পর্যায় লাকি আক্তার প্রসাব পায়খানা করার কথা বলে বাড়ী থেকে পালিয়ে গিয়ে তার বাবাকে ফোনে ৫ লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলে নাহলে তার স্বামী শশুর শাশুড়ী ও ননদ তাকে মেরে ফেলবে বলে যানায়। সেখান থেকে তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। পরে প্রচার চালায় লাকি আক্তার বিষ পান করেছে। হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মাইক্রোবাসে করে মৃত লাশ নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। কোন হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি। কিন্তু দুই হাসাপাতালের রেকর্ডে কথাও লাকি আক্তারকে ভর্তি কিংবা চিকিৎসার রেকর্ড পাওয়া যায়নি। পুলিশ লাশ বাড়ী থেকে উদ্ধার করে।

এ ব্যাপরে বীরগঞ্জ থানায় একটি হর্ত্যা মামলা দায়ের হয়েছে মামলা নং- (৮) তাং- ১২-০১-২০২০। যে মামলায় বাদী উল্লেখ করেছে যৌতুকের জন্য মারধর করে বিষ পান করিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তবে কয়েকজন প্রতিবেশী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, লাকি আক্তারকে নির্যাতন করে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা।

বীরগঞ্জ থানার ওসি সাকিলা পারভীন বলেন, আমরা হত্যা মামলা গ্রহণ করেছি। আসামীরা ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। কি ভাবে হত্যা করা হয়েছে তা তদন্ত চলছে।