দিনাজপুরে করোনায় শনাক্ত ৭জন

মোঃ নাজমুল ইসলাম নয়ন,দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি: করোনাভাইরান আক্রান্ত ৭ জনের পজেটিভ রিপোর্ট আসার পর দিনাজপুরে করোনা নিয়ে নতুন করে আতংক আর উদ্বেগ উৎকন্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৭ জন রোগি দিনাজপুরে প্রথমবারের মতো মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শনাক্ত হয়। এর মধ্যে দিনাজপুর সদর ৩জন,নবাবগঞ্জ উপজেলায় ৩জন এবং ফুলবাড়ী উপজেলায় একজন।

দিনাজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা, আব্দুল কুদ্দুস জানিয়েছে,করোনাভাইরাস আছে কি না,তা পরীক্ষার জন্য দিনাজপুরে এ পর্যন্ত ১৪৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে রংপুরে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ৭১ জনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে ৭ টি পজেটিভ। বাকি ৭৮ জনের রিপোর্ট দু’এক দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

দিনাজপুর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের মধ্যে সোহাগ (২৫) ও লাকি আক্তার (১৮) দম্পত্তি।তাদের বাড়ি শহরের সরকারি কলেজের বিপরিতে সুইহারী মির্জাপুর এলাকায় আদিবাসী কালচারাল সেন্টারের পাশে। আরেকজনের নাম বিক্রম রায় (২৩)। বাড়ি সরকারি কলেজের উত্তর-পূর্ব কোনে নয়নপুর এলাকায়।

এদিকে নবাবগঞ্জ উপজেলার সামিউল ইসলাম (২৪),শাহাবুদ্দিন (৫০) ও ইমানুর। ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েবাড়ি মধ্যমপাড়া এলাকার এনামুল হক (৩০) করোনায় আক্রান্ত।

দিনাজপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মধ্যে ৬ জনেই কয়েকদিন আগে ঢাকা,নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে দিনাজপুরে এসে অবস্থান নিয়েছেন। বাকি একজন স্থানীয়।করোনাভাইরাসে শনাক্তদের এলাকাগুলো লকডাউন করা হয়েছে।

এছাড়াও দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসলেসোন ইউনিট থেকে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তি আজিজার রহমান সোমবার করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বরণ করার পর তার বিরামপুর উপজেলার কাটলায় শৈলান গ্রামটির ২০ পরিবারকে লকডাউন করা হয়েছে।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত যারা শনাক্ত হয়েছেন,তাদের এলাকাগুলো লকডাউন করা হয়েছে। তবে,কৃষি নির্ভর জেলা হওয়ায় পুরো জেলায় লকডাউন দেয়া কিছুটা বিড়ম্বনা রয়েছে।পরিস্থিতি বিবেচনায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি’র মিটিং এ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।তবে,করোনাভাইরাস সংক্রামন ঝুকি এড়াতে দিনাজপুরে জেলা প্রশাসন যে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন,দিনাজপুরবাসী অনেকাংশে তা মেনে না চলায়,উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ।

জেলা প্রশাসক মো,মাহমুদুল আলম, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, যান বাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ ও ঘরে থাকার জন্য জেলাবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরান পরীক্ষার যে পিসিআর মেশিন বসানো হয়েছে,তার পরীক্ষা কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। এ মেশিনটি চালু হতে আরো ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন, হাসপাতালের পরিচালক ডা. নির্মল চন্দ্র দাস।

আজ বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দিনাজপুরে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি আর বজ্রপাত হওয়ায় এক প্রকার প্রকৃতির লকডাউন চলছে দিনাজপুর জেলায়।