দশমিনায় দু:স্থ্যদের পাশে নেই এনজিও

সঞ্জয় ব্যানার্জী, দশমিনা-বাউফল প্রতিনিধিঃ করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় চলমান লকডাউনে কর্মবিমূখ পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার মানুষের পাশে নেই চলমান কোন এনজিও । এসব মানুষের খাদ্যের যোগানে চলছে সরকারী অপ্রতুল খাদ্য সহায়তায়। উপজেলায় প্রায় ৪০/৪৫টি এনজিও’র কার্যক্রম চললেও হতদরিদ্র মানুষের পাশে নেই কোন এনজিও । বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে এনজিওর গুলোর এমন আচরণে হতাশা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছে প্রশাসনসহ সাধারন মানুষ।

এছাড়াও গনতন্ত্র, উন্নয়ন, সুশাসন, ভোট ও ভাতের অধিকার নিয়ে একাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনের সময় শ্রমজীবী এসকল মানুষের দ্বারে দ্বারে প্রতিশ্রুতির ডালি নিয়ে ঘুরলেও এখন এ অসময়েও শ্রমজীবি এসব মানুষের পাশে নেই রাজনৈতিক দল গুলো। ফলে একমাত্র সরকারের অপ্রতুল খাদ্য সহায়তায় শ্রমজীবী এসকল হতদরিদ্র পরিবার গুলোর কোন দিন উনুন জ্বলছে, আবার কোন দিন জ্বলছে না।

স্থানীয় গনমাধ্যমকর্মীসহ সাধারন মানুষের অভিযোগ, ঘূর্নিঝড় সৃষ্টি হলে ক্যামেরা হাতে গনমাধ্যমকর্মীদের চেয়ে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন এনজিও গুলোর কর্মীরা। অপ্রতুল সাহায্যের নামে শ্রমজীবি হত দরিদ্র মানুষ গুলোর সাথে চলে ফটোশেসন। এসব ফটো দেখিয়ে দাতাদের আকৃষ্ট করে আর্থিক সহায়তা নিলেও এসব মানুষের ভাগ্যে জোটে যৎসামন্য। বর্তমান করোনা পরিস্থিতে সারা দেশ লকডাউন ঘোষনার পর একইভাবে এসব মানুষের পাশে মাঠে থাকার কথা থাকলেও দেখা মিলছেনা কোন এনজিওর। এতে হতাশা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছে প্রশাসনসহ সাধারন মানুষ।

এনজিও থেকে ঋন গ্রহনকারী মোসাঃ ফজিনুর বেগম (৩৮) জানান, ব্যাংক থেকে ঋন গ্রহন সহজ না হওয়ায় এনজিও থেকে ঋন গ্রহন করেছেন। সারা বছর মোটা অংকের সুদ নিলেনও দুঃসময়ে কোন সাহায্য করেনা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের নির্দেশে দুর্যোগ ও ত্রান মন্ত্রনালয় থেকে উপজেলায় ৫৬মেট্রিক টন চাল ও নগত ২লক্ষ ৪৫হাজার ৫শ” আর শিশু খাদ্যোর জন্য ২৭হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বরাদ্দকৃত থেকে ৩৪মেট্রিক টন ও ১লক্ষ ৪৫হাজার উপজেলার ২হাজার ৩শ” ৩৩ পরিবারকে চাল, ডাল, তেল, আলু, লবন ও সাবান সম্বলিত প্যাকেজ সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২২মেট্রিক টন চাল ও ১লক্ষ ২৭হাজার মজুদ রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোসাঃ তানিয়া ফেরদৌস বলেন, “করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় এনজিও গুলো শুধুমাত্র সচেতনতার হ্যান্ডবিল বিতরন ছাড়া দুস্থ্য মানুষের জন্য কিছু করেছে বলে আমার জানা নেই। তবে এ পরিস্থিতিতে তারা দুঃস্থ্য পরিবারকে সাহায্যে সহযোগীতা করবে কি না তা তাদের বিষয়। আমি সমাজের প্রতিষ্ঠিত, বিত্তবান ব্যক্তি ও এনজিওদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি ।”