দশমিনায় আম চাষে সাফল্য অর্জন কাজী সরোয়ারের

 সঞ্জয় ব্যানার্জী, দশমিনা-বাউফল প্রতিনিধি: আম বাগানে আমের চাষে করে সাফল্য অর্জন ঘটিয়েছেন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামের শিক্ষিত যুবক কাজী সরোয়ার হোসেন। ২০০৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ৩২শতাংশ জমিতে আম চাষ করে বেশ সাফল্য পেয়েছেন তিনি। প্রথমে সে ৩২শতাংশ জমিতে রতনা, হিম-সাগর ও আম্রপলি জাতের ৬২টি আমের গাছ রোপণ করেন। ১৫ বছরের ব্যবধানে ২০১৯ সালে ঐ আম বাগান থেকে ৬২হাজার টাকার আম বিক্রি করে। এতে সে বেশ লাভবান হয়। এ বছর ওই বাগান ১লাখ ৫০হাজার টাকার বেশি আম বিক্রি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাজী সরোয়ারের দাবী কয়েকদিন পূর্বে কাল বৈশাখী ঝড়ে আমের ব্যাপক ক্ষতি ও ঝড়ে পরে গেছে ।

সব আম গাছে থাকলে এ বছর ২থেকে ৩লাখ টাকা বিক্রি হতে। রোববার গছানী গ্রামে শিক্ষিত যুবকের আম বাগানে গেলে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। কাজী সরোয়ার হোসেন জানান, ১৯৯৩সালে গছানী মাধ্যমিক পাস করে এবং ১৯৯৫ সালে আঃ রসিদ তালুকদার কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেয়। চাকরি করে বেতনে টাকায় সংসার পরিচালনা করা সম্বাব হয়না বলে বাড়িতে চলে আসেন। বাড়িতে এসে যুব উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে কৃষি প্রশিক্ষন গ্রহন করেন। আর যুব উন্নায়ন থেকে ২০হাজার টাকা ঋন গ্রহন করে আম ও কলা বাগানের কার্যক্রম শুরু করে। আর চাকরির বদলে বেছে নেন কৃষি। প্রথমে সে বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছের একটি নার্সারী তৈরি করেন। এতে সে বেশ লাভবান হয়।

সে কৃষি কাজে ব্যাপক প্রসার ঘটার জন্য আম চাষ করার সিদ্ধান্ত নেয়। কাজী সরোয়ার পৈত্রিক ও ওয়ারিশের জমি কবলা করে আমের বাগান করে। ২০১৫সালে ২শ” ১৬শতাংশ জমিতে ২শ”৩৬টি বিভিন্ন জাতের আম চাষ শুরু করেন। একটি চারা আম গাছে আম ধরা পর্যন্ত তার খরচ হয় প্রায় ১শ” থেকে ১৫০ টাকা। প্রথম বছর ২০১৫ সালে গড়ে প্রতিটি গাছ থেকে ১৬ থেকে ২৫কেজি আম পেয়েছিল। গতবছর প্রতি কেজি আম বিক্রি করেছিল ১শ”১০থেকে ১শ”২০টাকা। এ বছর একটি আম গাছে পরিচর্যা খরচ হয়েছিল ১শ” থেকে ১শ”৫০টাকা। কিন্তু এবার গড়ে প্রতিটি গাছে ৩১থেকে ৩৬কেজি আম পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে যেমন একটি গাছের পরিচর্যা খরচ বাড়বে তেমনি আমের সংখ্যাও বাড়তে থাকবে।

আগামীতে আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বনি আমিন খান বলেন এই অঞ্চল আম চাষের জন্য আবহাওয়া ও জলাবায়ু উপযোগী। এ অঞ্চলে আম চাষ করে এলাকার চাহিদা মিটিয়ে চলছে। কাজী সরোয়ারকে আমাদের দপ্তর থেকে বিভিন্নভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্য কেউ যদি এ ধরণের বাগান করতে চায় তাকেও আমরা পরামর্শ দেবো। তবে কাজী সরোয়ার বলেন ‘সরকারিভাবে যদি আমাদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও সার কীটনাশক সরবরাহ করা হয় তাহলে আরো আম চাষে বিপ্লব ঘটাতে পারব।