দশমিনায় আবুল জমুনা সেতারাদের মুখে হাসি

সঞ্জয় ব্যানার্জী, দশমিনা-বাউফল প্রতিনিধি:করোনাভাইরাস সংঘনিরোধ পরিস্থিতিতে আয়হীন হয়ে পড়েছে দশমিনার খেটে খাওয়া ও অতিদরিদ্র পরিবারগুলো। এ সময় সাইক্লোন আমফান চলতি বছরের ১৬ মে আঘাত হানে উপকূলীয় দশমিনা উপজেলায়। অভাব-অনাটনে অতিদরিদ্র পরিবার যখন দিশেহারা সরকারের যতসামান্য ত্রান কার্যক্রম যখন মুখথুবরে পরেছে, তখন ত্রাতা হয়ে ত্রান বিতরণ করে বেসরকারি সংস্থা ইকেএইড ও স্টার্টফান্ড।

বেসরকারি সংস্থা জাগোনারী’র লীডে স্থানীয় সেচ্ছাসেবী সংগঠন নজরুল স্মৃতি সংসদ (এনএসএস) মাঠ পর্যায়ে ত্রাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে। ওই ত্রান প্যাকেজ পেলেন দশমিনার আবুল হোসেন, জমুনা বেগম ও সেতারা বেগমদের মতো ৪৫০ পরিবার। দশমিনা উপজেলা সদরের মৃত. সালাম প্যাদা ও মোসাঃ বেগম বিবির প্রতিবন্ধী সন্তান আবুল হোসেন। ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। বাবা সালাম প্যাদার ছোট্ট কুটিরে বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে বসবাস তার। করোনাভাইরাস সংঘনিরোধ সময়ে সড়কে বেড়ানো নিষেধ থাকায় আয়হীন মানবেতর জীবন যাপন করছে।

ঘুর্নিঝড় আমফান তার কুটিরে আঘাত হানে। খাদ্যাভাব আর আশ্রয়হীন প্রতিবন্ধী আবুল দিশেহারা হয়ে সমাজের বিত্তবানদের কাছে হাতপাতে। এ সময় এনএসএস’র দেয়া ত্রাণ প্যাকেজ পায় আবুল হোসেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ক্রয়ের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ কুটির সারিয়ে তোলেন আবুল। প্রতিবন্ধী আবুল হোসেন জানান, নগদ ৩ হাজার টাকা দিয়ে এক বস্তা চাল, ২কেজি ডাল ও ১০ কেজি আলু কিনেছি, বাকি টাকায় ভাঙা ঘরটি সারিয়ে তুলেছি। এনএসএস’র দেয়া সাবান গায়ে মাখি, জামা-কাপড় হুইল দিয়ে ধুই ও মাস্ক পরে এখন ভিক্ষা করি। ঋতু¯্রাবের কাপড় ভাবীকে দিয়ে দিয়েছি।

এছাড়াও বাসার সামনে হাত ধোয়ার ডিভাইস স্থাপন করেছি। এ মাসটি অভাবহীন ভালই কেটেছে আমার। উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামের মরহুম কালু সিকদারের স্ত্রী জমুনা বেগম। ৪ কন্যা ও ১ ছেলের জন্ম দিয়ে স্বামী গত হয়েছে এক যুগ আগে। নদী ভাঙনের শিকার জমুনার পরিবার বারবার বসতির স্থান পরিবর্তণ করে ঠাই নিয়েছে বেঁড়িবাধে। চাষযোগ্য জমিহীন জমুনার ছেলে জেলে নৌকায় কাজ করে ৫ জনের সংসারভার নির্বাহ করে। জাটকা নিধনরোধ, করোনাভাইস সংঘ নিরোধ ও আমফানে যারপরনাই ক্ষতিগ্রস্থ জমুনার পরিবার। এ সময় বেসরকারি সেচ্ছাসেবী সংস্থা এনএসএস জমুনার পরিবারে নগদ ৩ হাজার টাকা, টেপসহ বালতি, মগ, ১৩টি সাবান, ৫০টি মাস্ক, ২প্যাকেট গুড়া সাবান ও ঋতুস্রাব কালীন ব্যবহার্য ৮পিচ কাপড় দিয়েছে।

জমুনা জানায়, অভাবের অন্ধকার সংসারে ত্রাণের উপহার যেন আলোর প্রদীপ। দোয়া করি আল্লাহর দূত হয়ে আসা এনএসএস দলকে। তাদের ত্রাণের টাকায় চাল-ডাল কিনে এক মাস ভালভাবে কাটিয়েছি। বুড়াগৌরাঙ্গ নদের ভাঙনে নিঃস্ব উথলীদের মধ্যে সেতারা বেগমের পরিবার। বারবার ভাঙণের শিকার জয়নাল শরীফ ঠাঁই করে নেয় উত্তর চরশাহজালালের খাস জমিতে। দুজনেই বয়সের ভাওে ন্যুজ। জেলে নৌকায় ও কৃষি জমিতে দিনমজুরের কাজ করে দুছেলে। বিবাহীত ছেলেদের স্ত্রী সন্তান নিয়ে ১১ জনের সংসার সেতারা বেগমের। ঘুর্ণিঝর আমফানে বসতভিটের ক্ষতি হলে স্থানীয় স্বজন আবু তাহেরের ঘরে ঠাঁই করে নেয় তারা। এনএসএস সংস্থার দেয়া নগদ ৩ হাজার টাকায় খাদ্য সামগ্রী কেনে সেতারা।

টেপসহ বালতি, মগ, ১৩টি সাবান, ৫০টি মাস্ক, ২প্যাকেট গুড়া সাবান ও ঋতু স্রাব কালীন ব্যবহার্য ৮পিচ কাপড় অভাবী পরিবারে আশার আলো জলে উঠেছে। ত্রাণদাতাদের প্রাণভরে দোয়া করেন সেতারা বেগম। ত্রান কার্যক্রম বিষয়ে দশমিনা উপজেলা সিপিপি লিডার ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন’র উপজেলা চেয়ারম্যান পাভেল মাহমুদ রয়হান জানায়, ঘর্ণিঝড় আমফানে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে সময়উপযোগী ত্রান বিতরণ করেছে এনএসএস। দশমিনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এইচ.এম ফোরকান জানায়, বেসরকারি সংস্থার দেয়া ত্রাণ স্বচ্ছ পদ্ধতিতে বিতরণের কারণে উপকারভোগীদের জন্য অধিক ফলপ্রসূ হয়ে থাকে। দশমিনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ফয়েজ আহমেদ বলেন, ত্রাণ দূর্ণীতির অন্ধকারে এনএসএস’র দেয়া ত্রাণ যেন এক ফালি চাঁদেও মতো আলো ছড়াচ্ছে।

বেসরকারি সংস্থা এনএসএস এর ত্রান কার্যক্রম বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাঃ তানিয়া ফেরদৌস বলেন, রেপিড রেসপন্স অব সাইক্লোন আমফান প্রকল্পের অর্থায়নে থাকা ইউকেএইড ও স্টার্ট ফান্ডকে ধন্যবাদ জানাই আমার উপজেলা বাছাই করার জন্য। এছাড়াও জাগোনারীর লীডে বাস্তবায়নকারী সংস্থা এনএসএস টিম ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে অভাবী মানুষের মুখে হাঁসি পোটাতে সক্ষম হয়েছে।