ত্রাণ: বাদ পড়াদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে বললেন মেয়র নাছির

মোঃ রাশেদ, চট্রগ্রাম প্রতিনিধি: স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ত্রাণের তালিকায় বাদ পড়াদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা কালাম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মেয়র নাছির বলেন, “আমি নগরবাসীর কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলব- যারা এই পর্যন্ত তালিকাভুক্ত হননি, অনুগ্রহ করে আপনারা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মাধ্যমে নিজেদের নাম অর্ন্তভুক্ত করুন।

“যদি কোনো কাউন্সিলর তালিকাভুক্তিতে অনীহা প্রকাশ করেন তাহলে সরাসরি আমাকে বা সংশ্লিষ্টদের অবহিত করুন। অন্তর্ভুক্তির পর ত্রাণ সহায়তা পেতে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে তার দায়িত্ব আমি নিজেই নেব।”

তিনি বলেন, “সরকারি ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থাপনায় কোনো রকম অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি অপেক্ষা করছে। এই কাজে নিয়োজিতদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ত্রাণ প্রাপ্তিতে অসন্তোষ নিয়ে কেউ কেউ আমাদের কাছে যোগাযোগ করে বলেছেন, তারা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারছেন না।

“এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের চূড়ান্ত নির্দেশনা হচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত ত্রান বণ্টনের ব্যাপারে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা সঠিকভাবে পালন করতে হবে। এখনও পর্যন্ত যারা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি অবশ্যই স্ব স্ব ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের সাথে যোগাযোগ করে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করুন।”

উদ্বেগ প্রকাশ করে মেয়র নাছির বলেন, “ত্রাণ বিতরণে যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ সঠিক দায়িত্ব পালন করছেন না। তাদের এহেন কর্মের জন্য আামরা প্রশ্নবিদ্ধ হব।

“এই ত্রাণ বণ্টনের তালিকায় অগ্রাধিকার পাবে দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষ, রিকশা চালক, ভ্যানগাড়িওয়ালা, চা দোকানদার, অটোরিকশা চালক, দোকানের কর্মচারী, ভবঘুরে, ভিক্ষুকসহ অসমর্থ ব্যক্তিগণ।”

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যারাই ত্রাণ পাওয়ার অগ্রাধিকারে আছেন তারা যদি নিজ দায়িত্বে তালিকাভুক্ত না হন তাহলে এই দায়িত্ব জনপ্রতিনিধিদের উপর বর্তাবে না। গরিব ও অস্বচ্ছল পরিবারের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছানো স্থানীয় জনপ্রনিধির দায়িত্ব।

“করোনাভাইরাসের কারণে মহা সংকটকাল অতিক্রম করছি আমরা। এই দুর্যোগকালীন সময়ে আমারা কোনোভাবেই যেন সংকীর্ণতা পোষণ না করি। মানবিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে সকলের পাশে দাঁড়াতে হবে।”

প্রায় ৭০ লাখ বাসিন্দার বন্দর নগরীতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার হিসেবে প্রায় ১৪ লাখ ৪০ হাজার মানুষ হতদরিদ্রের আওতায় পড়লেও সিসিসির হিসিবে এ সংখ্যা ২০ লাখের মতো বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন মেয়র।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সরকারি, সিসিসি পরিবার ও ব্যক্তি সহায়তায় প্রায় চার লাখ পরিবারের কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

“যারা বাকি আছেন তারা অবশ্যই ত্রাণ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হবেন না, এটা আমাদের অঙ্গীকার। দুর্যোগ কাটিয়ে না ওঠা পর্যন্ত এই ত্রাণ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

নগরবাসীকে নিজ নিজ ঘরে অবস্থানসহ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান মেয়র।