ত্রাণ চুরি’র মিথ্যা ঘটনায় আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ

মোঃ নাজমুল ইসলাম নয়ন, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি: দিনাজপুর সদর উপজেলায় শেখপুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মো. মমিনুল ইসলামকে ত্রাণের চাল ও আটা চুরি’র মিথ্যা অভিযোগে হয়রানী করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ,দিনাজপুর শহর শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রায়হান করীর সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস.এম.খালেকুজ্জামান রাজু স্বাক্ষরিত প্রেরিত এক প্রতিবাদ লিপিতে জানানো হয়েছে,২০ এপ্রিল’২০২০ মিথ্যা নাটক সাজিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা মো. মমিনুল ইসলামকে যে হয়রানী করা হয়েছে,তাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভারমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা করা হয়েছে।
অতি উৎসাহিত হয়ে যারা এই সাজানো ও ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেছেন,শহর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। প্রেরিত এই প্রতিবাদ লিপিতে আরো জানানো হয়,মো. মমিনুল ইসলাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের একজন পরীক্ষিত নেতা। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি তার এলাকায় জনকল্যাণমূখী কাজ করে তৃণমূল মানুষের কাছে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরীক্ষিত। তার ফলশ্রুতিতে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। সামপ্রতিক সময়ে প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে দেশব্যাপী সৃষ্ট সংকটের কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মমিনুল ইসলাম ব্যক্তিগত উদ্যোগে তার এলাকায় দূর্দশাগ্রস্থ মানুষের কাছে ত্রাণ সামগ্রী পৌছে দেয়ার কাজে নিয়োজিত করেছেন। কিন্তু,সদর উপজেলায় ৪ নং শেখপুরা ইউনিয়নে এ পর্যন্ত সরকারি পর্যায়ে হতে কোন প্রকার ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দ দেয়া হয়নি বলেও প্রতিবাদ লিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,২০ এপ্রিল সোমবার বিকেল ৪টায় সদর উপজেলায় ৪ নং শেখপুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. মমিনুল ইসলামের গুদাম থেকে ওএমএসের ৬৪ বস্তা চাল ও ৪৮ বস্তা আটা জব্দ করা হয়। সেই সাথে এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মমিনুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে আইন শৃংখলা বাহিনী। দিনাজপুরের গাবুড়া বাজার সংলগ্ন ওই চেয়ারম্যানের গুদামে একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটসহ অভিযান পরিচালনা করে গোয়েন্দা পুলিশ ও কোতোয়ালি থানা –পুলিশের একটি দল।অভিযানে অংশ নেয়, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার শাহরিয়ার রহমান,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুজন সরকার, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন, গোয়েন্দা শাখার ওসি এ টি এম গোলাম রসুল, কোতোয়ালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত)বজলুর রশিদসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। অভিযান শেষে ওই রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুজন সরকার বলেন,গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলামের গুদামে অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় ৩০ কেজি ওজনের ৬৪ বস্তা চাল (১ হাজার ৯২০ কেজি) এবং ৫০ কেজি ওজনের ৪৮ বস্তা আটা (২ হাজার ৪০০ কেজি) জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক চেয়ারম্যান ওইদিন জানায়, তাঁর গুদামঘরে চারজন ডিলারের ওএমএসের চাল ও আটা রয়েছে। সরকার কয়েক দিন আগে ওএমএস কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়ায় ওই চারজন ডিলার তাঁদের পণ্য চেয়ারম্যানের গুদামে রেখেছেন। দিনাজপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. রেজাউল ইসলাম জানান,‘ওএমএসের চাল বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় খাদ্য বিভাগের ডিলাররা চেয়ারম্যানের ওই গুদামঘরে চাল ও আটার বস্তাগুলো সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। বিষয়টি ডিলাররা আমাকে মুঠোফোনে অবহিত করে রেখেছেন। করোনা পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে ডিলাররা পণ্যসামগ্রী সেখানে রেখেছেন। পরে ৭ ঘন্টা পর ওইদিন রাতা ১১টায় শখপুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মো. মমিনুল ইসলামকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরদিন মঙ্গলবার চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামের কাছে থানা থেকে জব্দকৃত মালামাল ফেরত দেয়া হয় ।
এ ঘটনায় পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনার ঝড় উঠে। এখনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে ব্যাপক তোলাপাড় চলতে থাকে। এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে লেখা,ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে,প্রতিনিয়ত। এ বিষয়ে দিনাজপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন জানান, চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলামকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিলো। এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। খাদ্য বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় হিসাব ও কাগজপত্র পাওয়ার পর প্রশাসনের প্রত্যায়ন ও সুপারিশ ক্রমে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।