তৃতীয় সপ্তাহেও ভারতজুড়ে চলছে বিক্ষোভ 

তুলনামূলক হতাহতের ঘটনা কমে এলেও তৃতীয় সপ্তাহেও ভারতজুড়ে চলছে বিক্ষোভ। দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, চেন্নাইসহ দেশটির বড় বড় শহরে বিক্ষোভ দেখিয়েছে ছাত্র-জনতা। উত্তরপ্রদেশের ২১টি জেলায় ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মিরাটেই ৭৯টি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ, গ্রেফতার করা হয়েছে ৩১৭ জনকে। গত কয়েকদিনে বিক্ষোভকালে ভারতে নিহত হওয়া ২৫ জনের মধ্যে ১৯ জনই এই রাজ্যের। বিক্ষোভকালে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে পুলিশ।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম বড় ধরনের চ্যালেঞ্জর মুখে পড়েছে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার। এরপরও জনদাবি উপেক্ষা করে কঠোর হাতে দমনের পথেই এগোচ্ছে হিন্দুত্ববাদী দলটি। পরিস্থিতির জন্য বিক্ষোভকারীদেরই দুষছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিক্ষোভকালে পুলিশি বর্বরতা নিয়ে কোনো কথা বলেননি, উল্টো কঠোরতার নির্দেশনা দিচ্ছে তার সরকার। এ অবস্থায় হিন্দুত্ববাদী বিজেপির জোটসঙ্গীরাও বিতর্কিত আইন নিয়ে ভিন্ন সুরে কথা বলছে। প্রায় সব দলই দাঁড়িয়েছে জনদাবির পক্ষে।

এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, শুক্রবার জুমার নামাজকে ঘিরে দিল্লির জামা মসজিদসহ বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রশাসন। দিল্লি ছাড়াও মুম্বাই, চেন্নাই এবং উত্তরপ্রদেশের বেশির ভাগ এলাকায় সকাল থেকেই মোতায়েন ছিল অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য।

পুলিশি বাধা উপেক্ষা করেই দিল্লির জামা মসজিদ ও মুম্বাইয়ের আজাদ ময়দানে বিক্ষোভে শামিল হয় হাজার হাজার শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় সাধারণ জনগণও। ৮ জানুয়ারি দেশজুড়ে শিল্প ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাম শ্রমিক সংগঠনগুলো। এতে সমর্থন দিয়েছে কংগ্রেস।

আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ডিজি ওপি সিংহ জানিয়েছেন, রাজ্যটির ৭৫ জেলার মধ্যে ২১টিতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। রাজ্যজুড়ে নজরদারিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন, নামানো হয়েছে আধাসামরিক বাহিনী। সংবেদনশীল জায়গাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, বিক্ষোভ দমনে অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপরও নজরদারি চালাচ্ছে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ। ইতিমধ্যে সাড়ে ১৯ হাজার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে ১২৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগে ৪৯৮ জনকে চিহ্নিত করেছে রাজ্য প্রশাসন।

গত ১১ ডিসেম্বর পাস হওয়া নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ২০১৫ সালের আগে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, পার্সি ও জৈন শরণার্থীরা ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। সমালোচকদের আশঙ্কা, এই আইন ও এনআরসির যৌথ প্রয়োগে মুসলিমদের ভারত থেকে তাড়ানোর চেষ্টা হতে পারে।