তৃতীয় দিনের মত নেতাকর্মীদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ

মোঃ রাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগ কঠিন মুহূর্তে অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দেওয়া কর্মীরাই আওয়ামীলীগের মূল ভিত্তি বলেনসিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

আজ মঙ্গলবার সকালে নগরীর ৩৬ নং গোসাইলডেঙ্গা, ৩৭ নং মুনির নগর ও ৩৮ নং দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডের নেতা কর্মীদের মাঝে ভোগ্যপন্য উপহার হিসেবে বিতরণ করেছে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।
এসময় মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান চৌধুরী, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক লায়ন মোহাম্মদ হোসেন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাজী জহুর আহাম্মদ, শ্রম সম্পাদক আবদুল আহাদ, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল আলম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াছ, প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা আলহাজ্ব আবদুল খালেক চৌধুরী, মহানগর শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহবুবুল হক চৌধুরী এটলি, ৩৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের আহবায়ক মো. ইলিয়াছ, যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল আলম চৌধুরী, আলহাজ্ব মোরশেদ আলী, ৩৭ নং ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হোসেন মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান, ৩৮ নং ওয়ার্ডের সভাপতি হাজী হাসান মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ হাসানসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপহার সামগ্রী বিতরণকালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আওয়ামী লীগের প্রাণ ভোমরা হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে নেতা কর্মীরা। দলের কঠিন মুহূর্তে অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দেওয়া এই কর্মীরাই আওয়ামীলীগের মূল ভিত্তি। আমরা দেখেছি দল যখন ক্ষমতায় থাকে তখন এইসব নেতাকর্মীদের আর কেউ খবর রাখে না। কিন্তু আওয়ামীলীগ এমন একটি সংগঠন, যা এর ব্যতিক্রম। আমাদের দলীয় সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাঠ পর্যায়ে বেছে বেছে নেতা কর্মীদের মূল্যায়ন করে যাচ্ছেন। আমরা তাঁর আদর্শের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তাই এই দূর্দিনে যে নেতা কর্মীরা অসচ্ছল নগরবাসীদের দোরগোড়ায় সরকারি ত্রাণ পৌছে দিচ্ছেন, অথচ তাদের ঘরেও খাদ্যাভাব উঁকি দিচ্ছে। তারা নিজের জন্য না রেখে জনগনের মাঝে বিলি-বন্টন করছেন। আমারা সেই জায়গাটা উপলব্ধি করে নেতাকর্মীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। আমরা চাই আমাদের নিবেদিত এই কর্মীরা প্রানোচ্ছল থাকুক।
মেয়র বলেন, ইউনিট আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা সরাসরি এলাকার মানুষের সাথে সম্পৃক্ত, তাই সরকারি ত্রান পৌছে দিতে এবং তালিকায় নাম অন্তুর্ভুক্তি করতে তাদেরই দায়িত্বটা বেশি নিতে হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আমাদের জীবন এবং জীবিকা দুটোই গুরুত্বপুর্ণ। তাই সরকার দুটোই যাতে সচল থাকে তার ব্যবস্থা করছেন। এজন্য আমাদের দরকার সম্মিলিত উদ্যোগে এই মহামারি মোকাবেলা।
তিনি বলেন শুধুমাত্র সরকারি সাহায্যের দিকে না তাকিয়ে যার যতটুকু সামর্থ আছে উপার্জনের চাকাকে সচল রাখার ব্রত নিয়ে কাজ করতে হবে।
মেয়র বলেন পুরো মানবজাতি এখন এক সংকটের মুখোমুখি। সম্ভবত এটি আমাদের দেখা সবচাইতে বড় সংকট। আগামীর এই পৃথিবী কেমন হবে তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক সপ্তাহের উপর। আমাদের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সংস্কৃতিও নির্ভর করছে আমাদের নিজেদের উপর।
আমাদেরকেই এই পৃথিবীর দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। এই দুর্যোগ একসময় থেমে যাবে। মানবজাতি টিকে যাবে। আমাদের অধিকাংশই বেঁচে থাকবো। কিন্তু আমরা বাস করবো এক ভিন্ন পৃথিবীতে। এক নতুন পৃথিবীতে, নতুন অভিজ্ঞতায়। দূর্যোগ পরবর্তী থেকে যাবে আমাদের কর্ম, আমাদের যার যার অবদান।
আগামী ইতিহসে আমরা যাতে মানবিক হিসেবে জায়গা করে নিতে পারি সেজন্য আমি সংগঠনের প্রত্যেককের অবস্থান থেকে মানবতার কাজে এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।