তুরস্কের চামলিজা মসজিদ

চামলিজা মসজিদ তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত একটি মসজিদ। এটি তুরস্কের বৃহত্তম মসজিদ।

ইস্তাম্বুলের দুটি অংশ, একটি ইউরোপ এবং অন্যটি এশিয়া। চামলিজা মসজিদটি নির্মাণ করেছেন সুলতান এরদোয়ান (প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান)। এটি ইউরোপের সবচেয়ে বড় মসজিদ। ২০১৯ সালে নির্মাণ কাজ শেষ হয় মসজিদটির।

ইস্তাম্বুল নগরীর মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত বসফরাস প্রণালীর দক্ষিণ উপকূলে পাহাড়ের ওপর নির্মিত মসজদিটি বৃহস্পতিবার রজব মাসের প্রথম দিন ফজরের নামাজের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়। এসময় উপস্থিতি ছিলেন ‍তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম।

দুইজন মহিলা স্থপতি বাহার মজরাক এবং হায়রিয় গাল তোতু চামলিজা মসজিদটির নকশা করেছিলেন। এর বাজেট ব্যয় প্রায় ১৫০ কোটি ডলার তুর্কি লিরা ($৬৬.৫ মিলিয়ন ডলার) ধরা হয়েছিল।

মসজিদটিতে ৬টি মিনার রয়েছে। ৬টি মিনার নির্মাণের পেছনেও লক্ষ্য রয়েছে। ইসলামের যে ভিত্তি রয়েছে যেমন- আমানতু বিল্লাহি, ওয়া মালায়িকাতিহি, ওয়া কুতুবিহি, ওয়া রাসুলিহি, ওয়াল ইয়াওমিল আখিরি, ওয়াল কদরি খয়রিহি ওয়া শাররিহি মিনাল্লাহি তাআলা, ওয়াল বাআছি বাদাল মাউত।

(বাংলা অর্থ : আমি বিশ্বাস আনলাম আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসুলগণের প্রতি, কিয়ামতের দিনের প্রতি; তাকদিরের প্রতি, ভাগ্যের ভালো-মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে; মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি।)

১০৭. ১ মিটার উঁচু ছয়টি মিনার রয়েছে মসজিদটিতে। ১০৭১ সালে বাইজেন্টাইন বাহিনীর বিরুদ্ধে বিজয়ের কথা স্মরণ করে এটি করা হয়েছে। আর ইস্তাম্বুলে বসবাসরত ৭২টি জাতির মানুষের কথাটি মাথায় রেখে সর্বোচ্চ গম্ভুজের উচ্চতা রাখা হয়েছে ৭২ মিটার।

মসজিদটিতে বিছানোর জন্য ১৭ হাজার বর্গমিটার বিশেষভাবে সম্পূর্ণ হাতে বোনা কার্পেট রাখা হয়েছে। মসজিদের মিম্বরের উচ্চতা ২১ মিটার, যেখানে ইমামের ওঠার জন্য রয়েছে এলিভেটর। একই সাথে ৮টি জানাজা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা রয়েছে মসজিদটিতে।

মসজিদে ৬৩০০০ লোক একসাথে নামাজ আদায় করতে পারে এবং এতে একটি যাদুঘর, আর্ট গ্যালারি, গ্রন্থাগার, কনফারেন্স হল এবং ৩৫০০ যানবাহনের জন্য ভূগর্ভস্থ পার্কিং রয়েছে।

অর্থনীতির শক্তি দেখাতে এবং পরিচালনাকারী এ কে পার্টির উত্তরাধিকার প্রদানে তুরস্ক সরকার দ্বারা নির্মিত বহু বড় কার্যক্রমগুলোর মধ্যে মসজিদটি অন্যতম।

তুরস্কের রাষ্ট্রপতি এরদোয়ান এর উদ্বোধনকালে বলেছিলেন: “যখন একটি ঘোড়া মারা যায় তখন সে তার মালামাল পেছনে ফেলে যায়, যখন একজন মানুষ মারা যায় সে তার কাজ পিছনে ফেলে যায়। আমরা এর জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকব।” তুরস্কের বিশ্লেষক জিয়া মেরাল দ্য টাইমসকে বলেছেন যে “এটি সংস্কৃতি কূটনীতি এবং বিশ্বে তুরস্কের ভূমিকার একটি দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কিত।”

২০১৯ সালের ৪ঠা মে তুরস্কের রাষ্ট্রপতি এরদোয়ান এই চামলিজা মসজিদটি উদ্বোধন করেন।

সেনেগালের রাষ্ট্রপতি ম্যাকি সল, গিনির রাষ্ট্রপতি আলফা কনডে, আলবেনিয়ান রাষ্ট্রপতি ইলির মেতা, ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শাতায়িহএবং অন্যান্য বিদেশী বিশিষ্ট ব্যক্তিরাসহ বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।