ঘরবাড়ি-কলকারখানা অবৈধ স্থাপনা না সরালে ‘গ্যাসবোমা’ বিস্ফোরণের আশঙ্কা

উচ্চ চাপের গ্যাস পাইপলাইনের দুই পাশে কম করে সাড়ে তিন ফুট করে জায়গা ফাঁকা রাখার কথা বলা হয়েছে আইনে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইপলাইনের ওপরেই গড়ে উঠেছে হাজার হাজার অবৈধ ঘরবাড়ি-কলকারখানা।

 

এসব স্থাপনার কারণে কোনোভাবে পাইপের ক্ষতি হলেই ‘গ্যাসবোমা’ বিস্ফোরণে হতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে তিতাসের লোকজনই এসব স্থাপনা করার সুযোগ করে দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ধনকুন্ডায় পাইপলাইনের উপরেই হয়েছে মসজিদ। পাশেই গ্যাস ভাল্ব। সড়কে নিচে লিকেজ থেকে গন্ধ ছড়াচ্ছে। স্থানীয়রা জানান,’এটা ঝুঁকিপূর্ণ তারপরও এখানে অনেক বাড়ি-ঘর হয়ে গেছে।’

পাশেই এনায়েতনগরে পুরো একটা পোশাক কারখানা উঠে গেছে তিতাসের লাইনের উপর।  এই এলাকায় কয়েক কিলোমিটার জুড়েই পাইপের উপর রয়েছে বাড়িঘরসহ অসংখ্য স্থাপনা। এলাকাবাসী জানান,’এখানে যা দেখছেন সবই গ্যাসের পাইপের ওপর বাড়ি। খালি জায়গা পড়ে আছে বাড়ি করছে। কেউ রক্ষণাবেক্ষনের কাজও করতে আসে না।’

তিতাসের একশ্রেণির অসাধু লোকজনই লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে এসব স্থাপনা তৈরির অনুমতি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর।  তিতাসের অধিগ্রহণ করা জমির মালিকানা নিয়েও আছে সন্দেহ। নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লা বলেন,’কর্তৃপক্ষ বলেছিলো যে, তারা সম্পূর্ণ জায়গা অধিগ্রহণ করেছে। এবং উচ্ছেদ করে জায়গা খালি রাখবে। পরবর্তিতে পাইপ বসানোর পর দেখা গেলো যে, উচ্ছেদের ভয় দেখিয়ে, বিভিন্ন বাড়ি কারাখানার কাছে থেকে নাকি লাখ লাখ টাকা কন্টাকটাররা নিয়েছে।’

২০০৩ সালে সংশোধিত প্রাকৃতিক গ্যাসের নিরাপত্তা বিধিমালা অনুযায়ী, উচ্চ চাপের গ্যাস পাইপলাইনের দুই পাশে আড়াই মিটার থেকে সাড়ে ৩ মিটার পর্যন্ত জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে। পাইপলাইনের উপর স্থাপনা নির্মাণ তদারকি, এর নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়গুলো দেখতে নিয়মিত টহলের ব্যবস্থার কথাও রয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ সালেক সুফি বলেন,’ঢাকা,  নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর এলাকায় সঞ্চালন পাইপলাইনের ওপর এমন অসংখ্য স্থাপণা আছে। এগুলি এক সময় বিশাল বড় দুর্ঘটনার শিকার হবে। এই যে অসাধু কর্মকর্তা যারা প্রমাণিত। তাদেকে চাকুরি থেকে অপসারণ এবং শাস্তির বিধান করতে হবে।’

নারায়ণগঞ্জের মসজিদে গ্যাস বিষ্ফোরণের পর নড়েচড়ে বসা তিতাস পাইপলাইনের ওপর গড়া অবৈধ স্থাপনার মালিকদের অপসারণ করার নির্দেশ দিয়েছে। ৩০ দিনের মধ্যে অপসারণ না হলে আইন অনুযায়ী অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছে তিতাস।

সরবরহা লাইন থেকে অবৈধ সংযোগ, কিংবা সংযোগের উপর অবৈধ স্থপনা নির্মাণই যেন নিয়েমে পরিণত হয়েছে। বড় দুর্ঘটনা ঘটলে নড়েচড়ে বসে কর্তৃপক্ষ। আশ্বর মেলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের। তারপর সব আশ্বাস হারিয়ে যায় অতলে।