তামাকুমন্ডি লেইনে ১৫ হাজার ব্যবসায়ীর মাথায় হাত এক মাসে ক্ষতি ৫শ কোটি টাকা

 মোঃরাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ করোনার অভিঘাতে নগরীর অন্যতম ব্যস্ত ব্যবসাকেন্দ্র তামাকুমন্ডি লেইনে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। এর মাঝে পঞ্চাশ হাজার কর্মচারীর পরিবার-পরিজনকে বাঁচিয়ে রাখা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ব্যাংক ঋণ এবং বন্ধু বান্ধবদের কাছ থেকে নেয়া ঋণের মুনাফার যোগান দিতে গিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন অনেকেই।
এখানে ১১০টি মার্কেটের ১২ হাজারেরও বেশি ছোট-বড় দোকানে ঝুলছে তালা। অথচ খরচ থেমে নেই। এতে করে এক হাজার কোটিরও বেশি দামের পণ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত তারা। গত এক মাসে অন্তত ৫শ কোটি টাকার লোকসানে পড়েছেন ১৫ হাজারের বেশি ব্যবসায়ী। ব্যাংক ঋণের সুদ স্থগিত এবং সরকারি প্রণোদনা থেকে কিছু ঋণের সংস্থান করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তামাকুমন্ডি লেইনে বিভিন্ন দোকানে রকমারি পণ্যের পসরা সাজানো থাকে। অভিজাত মার্কেটের চেয়ে তুলনামূলক কম দামে পণ্য পাওয়া যায় এখানকার দোকানগুলোতে। এতে করে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছে তামাকুমন্ডি লেইনের কদর রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানকার দোকানগুলো থেকে কয়েকশ কোটি টাকার পণ্য কিনেন। এখানে ১২ হাজার দোকানে কাপড়, জুতা, কসমেটিকস, ইলেকট্রনিঙ পণ্য, মোবাইল, ঘড়ি, ইলেকট্রিক পণ্য, শিশুদের খাবার, গার্মেন্টস আইটেম, পাঞ্জাবি, শার্ট, প্যান্টের দোকান, টেইলার্স, ক্রোকারিজ আইটেম, বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যসহ হরেক রকমের পণ্য পাইকারি ও খুচরা বিক্রি হয়। প্রাত্যহিক জীবনের প্রয়োজনীয় সব পণ্যই এখানকার মার্কেটগুলোতে পাওয়া যায়।
দেশি পণ্যের পাশাপাশি বিশ্বের নানা দেশ থেকে আমদানি করা হরেক রকমের পণ্যও আছে। ঈদকে সামনে রেখে দেশি-বিদেশি পণ্যে ভরে উঠেছিল তামাকুমন্ডি লেইনের দোকানগুলো। কোটি কোটি টাকার পণ্য তোলা হয় একেকটি দোকানে। বিপুল পরিমাণ পণ্যসামগ্রী আমদানি করা হয়। আমদানিকৃত পণ্যগুলোর কিছু দোকানে বা গুদামে পৌঁছেছে। কিছু রয়েছে পাইপ লাইনে। সবকিছু মিলে ব্যবসা যখন জমে ওঠার অপেক্ষায়, তখনই দেশে শুরু হয় করোনার সংক্রমণ। মরণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার সাধারণ ছুটিসহ নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বলা হয়। সরকারি নির্দেশনায় তামাকুমন্ডি লেইনের মার্কেটগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। চারপাশে গেটে তালা দেয়ায় সরকারিভাবে যেসব দোকান খোলা রাখার কথা, এখানে সেসব দোকানও বন্ধ করে দিতে হয়। এখানে থাকা খাবারের দোকানগুলোতে তালা ঝুলছে। একাধিক ব্যবসায়ী চ্যানেল এস কে বলেছেন, অভাবনীয় এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ১২ হাজার দোকান বন্ধ। অন্তত পঞ্চাশ হাজার কর্মচারী অলস জীবন কাটাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে প্রতিদিন। কর্মচারীদের বেতন-ভাতার যোগান দেয়া অনেক ব্যবসায়ীর জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।
একাধিক ব্যবসায়ী বলেছেন, ব্যাংক ঋণের সুদ এবং কর্মচারীর বেতন যোগান দিতে দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম। ঈদের বেচাকেনাকে সামনে রেখে নিজেদের যা ছিল সব টাকার পাশাপাশি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে, বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজন থেকে মুনাফা দেয়ার কথা বলে টাকা ধার নিয়ে পণ্য কিনেছেন ব্যবসায়ীরা। ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীনসহ পৃথিবীর নানা দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য এনে দোকান ভরতি করেছেন। ঈদের জমজমাট বেচাবিক্রির পর টাকা পরিশোধ করার কথা। এখন সবকিছু অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি দোকান এবং গুদামে থাকা শত শত কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। ব্যাংক ঋণের সুদ স্থগিত করার আবেদন জানিয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা ব্যবসা করে ব্যাংকগুলোকে কোটি কোটি টাকা মুনাফা দিয়েছি। এখন ব্যবসা নেই। দোকান খুলতে পারছি না।
নিজেদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা কঠিন। সেখানে ব্যাংক ঋণের সুদ দেয়া আরো কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। তাই অন্তত কয়েক মাসের সুদ মওকুফ করলে ব্যবসায়ীদের কিছুটা হলেও উপকার হবে। এছাড়া সরকারের ঘোষিত প্রণোদনায় বড় শিল্পপতিদের পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, আমাদের ক্ষয়ক্ষতি বিপুল। তা পোষানোর মতো সক্ষমতা এখানকার অসংখ্য ব্যবসায়ীর নেই। সরকারের সহায়তা এবং পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই সংকট কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব। বঙ্গবন্ধু দাতাব্য চিকিৎসালয় মাকের্টের দুটি দোকানের মালিক নুরী বেগম বলেন এই দুটি দোকান ভাড়া দিয়েই আমার পরিবার ও আমার মা-বাবার পরিবার চলে।বতর্মানে খুব খারাপ অবস্থায় আছি। তা পরও বণিক সমিতি দোকান ভাড়ার বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দিবেন তা আমি মেনে নিব।